পুলিশকে ‘বাহিনী’ নয়, ‘সার্ভিস’ বলা উচিত

0


পুলিশকে ‘বাহিনী’ নয়, ‘সার্ভিস’ বলা উচিত

সবার আগে পুলিশের সঙ্গে ‘বাহিনী’ শব্দটা বাদ দিতে হবে। পুলিশ কোনো বাহিনী নয়। পুলিশ হলো সার্ভিস।

এই কথাগুলো শুধু আবেগের কথা নয়। এটা মানসিকতা বদলানোর কথা।

বাংলাদেশে আমরা যুগ যুগ ধরে বলি ‘পুলিশ বাহিনী’। খবরের কাগজে, টেলিভিশনে, সরকারি নথিতে এমনকি সাধারণ কথাবার্তায়ও এই শব্দটা এতটাই চলে গেছে যে কেউ আর প্রশ্ন করে না। কিন্তু শব্দটা ছোট হলেও এর অর্থ বড়।

‘বাহিনী’ শব্দটা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। এগুলো সামরিক সংগঠন। এদের কাজ দেশ রক্ষা। পুলিশের কাজ ভিন্ন। পুলিশের কাজ জনগণকে সেবা দেওয়া, আইন রক্ষা করা এবং শান্তি বজায় রাখা। পুলিশ সরকারি কর্মচারী। তারা জনগণের টাকায় বেতন পায়। তারা জনগণের সেবক।

যে সংস্থা জনগণের সেবা করার জন্য তৈরি, তাকে ‘বাহিনী’ বললে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। মানুষ পুলিশকে ভয় পায়, শ্রদ্ধা করে না। পুলিশও নিজেকে শাসক মনে করে, সেবক মনে করে না।

বিশ্বের অনেক দেশে এই পার্থক্যটা এখন স্পষ্ট করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে পুলিশকে আর ‘ফোর্স’ না বলে ‘সার্ভিস’ বলা হয়। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে, ভাষা মানসিকতা তৈরি করে। যখন পুলিশ নিজেকে সার্ভিস মনে করে, তখন তাদের আচরণও বদলায়।

বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল নামও ‘বাংলাদেশ পুলিশ’। ওয়েবসাইটে, ইউনিফর্মে, সরকারি কাগজে এটাই লেখা। তারপরও আমরা মুখে মুখে ‘পুলিশ বাহিনী’ বলে যাচ্ছি। এই অভ্যাসটা বদলানো দরকার।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশকে নতুন করে গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে। দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী থেকে বের করে জনগণের পুলিশ বানানোর কথা বলা হচ্ছে। সেই পরিবর্তন শুধু আইন বা কাঠামো দিয়ে হবে না। ভাষা দিয়েও শুরু করতে হবে।

মিডিয়া যদি আজ থেকে ‘পুলিশ বাহিনী’ না লিখে ‘পুলিশ’ বা ‘পুলিশ সার্ভিস’ লেখে, সরকারি নথিতে যদি এই শব্দটা এড়ানো হয়, সাধারণ মানুষ যদি অভ্যাস বদলায়—তাহলে ধীরে ধীরে মানসিকতাও বদলাবে।

পুলিশকে বাহিনী না বলে সার্ভিস বললে পুলিশ দুর্বল হয়ে যাবে না। বরং জনগণের আস্থা বাড়বে। আর আস্থাই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ভাষা বদলালেই সব সমস্যা মিটে যাবে না। কিন্তু ভাষা না বদলালে মানসিকতাও বদলাবে না। তাই সবার আগে শব্দটা বদলানো দরকার।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team