বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ।

0

বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ।  

দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তিতে সরকার তার প্রথম ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা ও অর্জনকে সামনে এনে মূলত তিনটি বিষয়কে সাফল্যের সূচক হিসেবে তুলে ধরেছে—ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের বক্তব্যে এসব বিষয়কে সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে ১০০ দিন পূর্তিতেও সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮০ দিনের খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

মাহদী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে গেছেন, সেখানেই ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। তার মতে, এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন লক্ষণীয়। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকার দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণের সুবিধা, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা, সরকারি সেবার মান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন কতটা এসেছে—এসব সূচক বিবেচনায় নিতে হবে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিমাপযোগ্য ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করবে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ইতোমধ্যে লক্ষণীয়। সরকার ইতোমধ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির বাস্তবায়নকে সামনে রেখে  সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ না রাখার অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির বাস্তব পরীক্ষা হবে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা কার্যকরভাবে নিজের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তার ওপর।

সরকারের আরেকটি রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—তোষামোদননির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকে সরকারের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির দাবি তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি, সমতা এবং নাগরিক মর্যাদা বাস্তবে নিশ্চিত হবে।

সব মিলিয়ে, ১৮০ দিনে সরকারের আত্মমূল্যায়নে একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে- আর তা হলো জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা, দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই দাবিগুলো কতটা টেকসই ফলাফলে রূপ নেয়। প্রথম ছয় মাসের দৃশ্যমান পদক্ষেপকে যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও নাগরিক সেবার উন্নতিতে রূপান্তর করা যায়, তবেই ১৮০ দিনের সাফল্যের রাজনৈতিক দাবি দীর্ঘমেয়াদি জনআস্থায় পরিণত হবে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team