বিচ্ছিন্ন ঘটনা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ন্যারেটিভ বানালো প্রথম আলো?

0


বিচ্ছিন্ন ঘটনা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ন্যারেটিভ বানালো প্রথম আলো?

একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে বিতর্ক বা বাধার ঘটনা অবশ্যই গুরুত্ব পাওয়ার মতো। কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হয়ে থাকলে তার কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রশাসনের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—একটি বা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো রাষ্ট্রকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে?

প্রথম আলোর প্রকাশিত কলামের শিরোনাম—“রাষ্ট্র যেখানে অর্ধেক হেরে বসে থাকে”। শিরোনামটি দেখলেই মনে হয়, রাষ্ট্র যেন তার কর্তৃত্বের একটি বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু ‘অর্ধেক’ বলতে ঠিক কতটা? ৫০ শতাংশ? দেশের কতটি এলাকা? কতটি সাংস্কৃতিক আয়োজন? কতজন মানুষ? শিরোনামে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

লেখাটিতে কিছু স্থানীয় ঘটনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে আপত্তি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি “রাষ্ট্র হেরে বসে আছে”—এমন একটি বৃহত্তর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো একটি editorial framing।

বাংলাদেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিন দেশের অসংখ্য এলাকায় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও স্থানীয় আয়োজন হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো একটি আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু সেটিকে পুরো রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন বৃহত্তর তথ্য, পরিসংখ্যান ও ধারাবাহিক ঘটনার প্রমাণ।

সমস্যা ঘটলে প্রশ্ন তুলুন, প্রশাসনের ব্যর্থতা থাকলে জবাবদিহি দাবি করুন। কিন্তু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এমনভাবে ফ্রেম করা উচিত কি না, যাতে পাঠকের কাছে মনে হয়—রাষ্ট্রই যেন পরাজিত?

প্রশ্নটা তাই ঘটনাটির চেয়েও বড়: রাষ্ট্র সত্যিই কোথায় হারল, কতটা হারল, আর সেই ‘অর্ধেক’ পরাজয়ের হিসাবটা কোথায়?

তথ্যের জায়গায় যখন শক্তিশালী শব্দ বসে যায়, তখন সংবাদ আর শুধু ঘটনা বর্ণনা করে না—ঘটনাটির একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্থও তৈরি করে। আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলেরে পরাজয়ের হার মেনে নিতে না পারা প্রথম আলো সেটা ইচ্ছা করেই করছে।  

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team