ক্ষমতা নয়, মানুষের আস্থা: তারেক রহমান
কিছু মানুষের জীবন একটা নদীর মতো — অনেক বাঁক পেরিয়ে, অনেক ঝড় সয়ে, তবু নিজের গতিপথ খুঁজে নেয়। তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনটাও অনেকটা তেমন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে যে আদর্শ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, সেই আদর্শকে তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভাষায়, নতুন প্রজন্মের কাছে বহন করে নিয়ে গেছেন।
নির্বাসনের বছরগুলো
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে থেকেও তাঁর মন পড়ে ছিল দেশের মাটিতে। এই সময়টা সহজ ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখোমুখি হয়ে, একের পর এক মামলা আর অভিযোগের বোঝা কাঁধে নিয়ে তিনি দূর প্রবাসে বসেও দলের হাল ধরে রেখেছেন, ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। যাঁরা তাঁকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিলেন, তাঁরাই হয়তো বুঝতে পারেননি — শেকড় যত গভীরে থাকে, ঝড় তাকে তত শক্ত করে তোলে।
একটি বিড়াল আর কিছু গাছ
রাজনীতির কঠিন আলাপের বাইরে তারেক রহমানের আরেকটা পরিচয় আছে, যেটা অনেকেই জানেন না। তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের প্রিয় বিড়াল জেবু প্রায়ই তাঁর কোলে ঘুমিয়ে থাকে — পরিবারের কাছে এই ছোট্ট প্রাণীটা নিছক পোষ্য নয়, একরকম শান্তির প্রতীক। প্রাণী আর প্রকৃতির প্রতি তাঁর যে টান, সেটা নিছক কথার কথা নয়। ঢাকার পশু আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নীরবে আর্থিক সাহায্য পাঠানো, বড় গাছের প্রতি তাঁর দুর্বলতা, বগুড়ার খোকন পার্কে পুরনো গাছ কাটার খবরে তাঁর মন খারাপ হওয়া — এসব ছোট ছোট গল্পই বলে দেয়, ক্ষমতার আলাপের আড়ালে একজন মানুষ আছেন, যিনি গাছ কাটা পড়লে কষ্ট পান, আর শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রাণির প্রতি মমতা শেখাতে চান।
ক্ষমতার নতুন ভাষা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের আচরণে একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন চোখে পড়ে। নিজের নামের আগে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করা, অহেতুক প্রটোকল আর আড়ম্বর কমানো, নিজের ছবিসহ ব্যানার এড়িয়ে চলা, রাস্তা বন্ধ না করে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত না ঘটানো — এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলো আসলে একটা বড় বার্তা বহন করে। ক্ষমতা যেন মানুষের থেকে দূরে সরে না যায়, বরং মানুষের কাছাকাছি থাকে।
তাঁর রাজনৈতিক ভাষাতেও এই সংযমের ছাপ স্পষ্ট। বিরোধী পক্ষের কড়া সমালোচনার জবাবেও তিনি সাধারণত শালীন, সংযত শব্দ বেছে নেন — ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে যুক্তির ভাষায় কথা বলেন। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংঘাতপ্রবণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা একটা ব্যতিক্রম, আর ব্যতিক্রমই কখনো কখনো নতুন নিয়মের জন্ম দেয়।
গ্রাম থেকে শুরু
তারেক রহমান বহুবার বলেছেন, ঢাকা এগোলেই বাংলাদেশ এগোয় না — দেশ এগোয় তখনই, যখন প্রতিটা গ্রাম নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য, আধুনিক কৃষি-প্রযুক্তি, তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং আর তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ, প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন — এসব পরিকল্পনার মূল সুর একটাই: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, আর উন্নয়নের কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে বসানো।
স্বীকারোক্তির সাহস
দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর ক্ষমতায় এসে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করা যায় না — বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার বাস্তব সীমাবদ্ধতা এখনও আছে। এই সীমাবদ্ধতা লুকিয়ে না রেখে খোলাখুলি স্বীকার করা, আর মানুষের কাছে আরও কিছুটা সময় ও সহযোগিতা চাওয়া — এটাকে দুর্বলতা না ভেবে বরং এক ধরনের রাজনৈতিক বিনয় হিসেবেই দেখা যায়। যে নেতা নিজের সীমা স্বীকার করতে পারেন, তিনিই আসলে মানুষের আস্থা অর্জনের যোগ্য।
শেষ কথা
ইতিহাস মনে রাখে না কার গাড়িবহর কত লম্বা ছিল, কার প্রটোকল কত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। ইতিহাস মনে রাখে, কে ক্ষমতাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল, কে বিপরীত মতকে সম্মান জানিয়েছিল, আর কে নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছিল। তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা — নির্বাসনের কষ্ট থেকে শুরু করে আজকের দায়িত্বের চেয়ার পর্যন্ত — সেই প্রশ্নেরই একটা জীবন্ত উত্তর হয়ে উঠতে পারে, যদি এই সংযম আর জবাবদিহিতার চর্চা অব্যাহত থাকে।
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সবচেয়ে বড় গয়না কোনো উপাধি নয়, কোনো প্রটোকল নয় — মানুষের আস্থাই তার আসল অলংকার।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment