দেশ বাঁচাতে নয়, দল বাঁচাতেই এনসিপি জামায়াতের লং মার্চ
জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহুর্তে
রাজপথে নামানো হয়েছে গাড়ির মিছিল।
নাম দিয়েছে লংমার্চ।
মুখোশ দিয়েছে জনগণের দাবি।
ভিতরে আছে ক্ষমতার হিসাব।
আর সেই হিসাবের দুই নাম—জামায়াত আর এনসিপি।
আজ পাঁচই সেপ্টেম্বর।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম।
শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি।
এগারো দলের ব্যানার।
কিন্তু ব্যানার যতই বড় হোক,
মঞ্চটা ধরে রেখেছে জামায়াত।
আর সেই মঞ্চে ঝুলছে এনসিপি।
তারা বলছে গণভোটের কথা,
বলছে জুলাইয়ের বিচার।
বলছে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই কেন।
বলছে দ্রব্যমূল্য।
কথাগুলো মানুষের কষ্ট থেকে চুরি করা।
কিন্তু কর্মসূচিটা তাদের নিজেদের বিজ্ঞাপন।
দেখুন দ্বিচারিতা।
এনসিপি আগে বলেছিল পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি।
সংকটের কথা শুনে কমিয়ে এক হাজার।
জামায়াত দাপট দেখাতে গিয়ে বাড়ালো দেড় হাজারে।
অর্থাৎ জনদুর্ভোগ কমাবে না।
শুধু সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি করবে।
যে দল তেল সংকটের বিরুদ্ধে ব্যানার তোলে,
সেই দলই মহাসড়কে ইঞ্জিনে পোড়াবে হাজার হাজার লিটার তেল গ্যাস।
একে আন্দোলন বলে না।
একে প্রহসন বলে, একে বলে ভন্ডামি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির শিরা। সেই শিরায় ঢুকবে হাজার হাজার গাড়ি। তৈরি হবে জ্যাম, পথে আটকাবে ট্রাক, বাস, অ্যাম্বুলেন্স।
সাধারণ মানুষের পথ বন্ধ করে বাড়াবে জনদুর্ভোগ। কত রোগী মারা যাবে আজ যানজটে, কিন্তু পথে থাকবে দলীয় দাপট।
কারণ তাদের দরকার মানুষের স্বস্তি নয়,
দরকার ক্যামেরার সামনে শক্তি দেখানো।
জামায়াত আজ মূল বিরোধী দল।
আটষট্টি আসন।
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট।
সংসদ তাদের হাতে আছে।
মাইক তাদের হাতে আছে।
তারপরও তারা মহাসড়ক বেছে নিয়েছে।
কারণ সংসদে যুক্তি লাগে।
রাস্তায় যুক্তি লাগে না শুধু আওয়াজ দিলেই হয়।
এনসিপির অবস্থা আরও বেহাল।
জুলাইয়ের ব্যানারে জন্ম।
সংসদে মাত্র ছয় আসন।
একা বড় কর্মসূচি করার শক্তি নেই।
তাই জামায়াতের বহরে উঠেছে।
ছাত্র-জনতার নাম ভাঙিয়ে এখন
ইসলামপন্থী জোটের সহযাত্রী।
যে দল বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের কথা বলেছিল,
আজ সেই দল অন্যের মিছিলে নিজের অস্তিত্ব খুঁজছে।
একে রাজনীতি বলে না।
একে নির্ভরতা বলে।
মনে রাখা দরকার।
জুলাই না হলে এনসিপি থাকত না।
জুলাইয়ের ফাঁক না থাকলে জামায়াতও
এই আসন পায়নি।
সেই সুযোগে সংসদে পৌঁছে
আজ তারা নতুন সরকারকে ছয় মাসেই ব্যর্থ সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত।
এখন দেশ পুনর্গঠনের সময়।
অর্থনীতি হিমশিম। জ্বালানি টালমাটাল।
এই মুহূর্তে ধৈর্যের রাজনীতিই দায়িত্ব।
তারা বেছে নিয়েছে অস্থিরতার রাজনীতি।
ঢাকা চট্টগ্রামেই শেষ নয়,
উনিশে সেপ্টেম্বর রংপুর।
দশই অক্টোবর খুলনা।
চব্বিশে অক্টোবর সিলেট।
চোদ্দই নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
অর্থাৎ এটি একদিনের প্রতিবাদ নয়।
বারবার সড়ক দখলের পরিকল্পনা।
জনগণকে বোকা বানাবে, জনগণকে জিম্মি করবে।
গণভোটের রায় আছে।
সে রায়ের জায়গা আইন ও সংসদ।
জামায়াত-এনসিপি সেখানে লড়তে চায় না।
চান মহাসড়কে শোডাউন।
কারণ শোডাউন দল বাঁচায়।
সংস্কার দেশ বাঁচায়।
দুটো এক জিনিস নয়।
এই অস্থিরতা সবচেয়ে বড় উপকার করে
পুরনো স্বৈরতন্ত্রের প্রচারকদের।
রাজপথ যত গরম হবে,
তত সহজে তারা বলবে—দেখো, দেশ আবার অচল।
জামায়াত আর এনসিপি সেই ফাঁদে নিজেরাই পা দিচ্ছে।
না বুঝে নয়।
হিসাব করে।
ডিসেম্বরে ফিরতে চায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, হাসিনা হুমকি দিচ্ছে, ভারত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিডিয়াগুলো ফিরে যাচ্ছে সেই পুরোনো শক্তিতে, এগুলো নিয়ে এনসিপি জামাতের প্রতিবাদ কই?
তারা মানুষের কষ্টকে ব্যানার বানিয়ে
নিজেদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ব্যস্ত।
আজকের এই লংমার্চ জনগণের নয়।
এটি জামায়াতের দাপট।
এনসিপির আত্মপ্রচার।
আর দেশের পথে এক অপ্রয়োজনীয় বোঝা।
লংমার্চ কি দরকার?
তাদের দল বাঁচাতে হয়তো।
দেশ বাঁচাতে নয়।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment