জামায়াত এনসিপির প্রহসনের লং মার্চ

0

 জামায়াত এনসিপির প্রহসনের লং মার্চ

এ মুহূর্তে (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট (যার অন্যতম প্রধান শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লং মার্চ করছে। তাদের দাবিগুলো মূলত: গণভোটের রায় (জুলাই সনদ) বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

কেন তারা বলছে লং মার্চ প্রয়োজন?

জোটের নেতারা দাবি করছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার (তারেক রহমানের নেতৃত্বে) ক্ষমতায় এসেও জনগণের মৌলিক সংকটগুলো সমাধান করতে পারেনি। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট চলছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ এবং গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া সংস্কারের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তারা বলছে, সংসদে দাবি না মেনে নিলে রাজপথে চাপ বাড়াতেই লং মার্চ। প্রথম লং মার্চ (৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম) শেষে তারা সতর্ক করেছিল—দাবি না মানলে ছয়/সাত/আট দফা এক দফায় পরিণত হবে (সরকার পতন)। আজকের রংপুর লং মার্চেও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান একই সুরে কথা বলেছেন।

জামাত এনসিপির প্রহসনের লং মার্চ: 

এই লং মার্চকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক প্রহসন হিসেবে। কারণ:

নির্বাচনী জোটের পর “জনগণের দাবি”: এনসিপি ২০২৫ সালের শেষে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে গিয়েছিল। তখন তাদের অনেক নেতা-কর্মী জোটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগও করেছিলেন। এখন সেই জোটই “১৮ কোটি মানুষের দাবি” নিয়ে রাজপথে নামছে। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ মুখ হিসেবে যারা এসেছিল, তারা এখন জামায়াতের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরকার পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি অনেকের কাছে আদর্শিক দ্বিমুখিতা মনে হয়।

-সংকটের সময় গাড়িবহর: জ্বালানি সংকটের মধ্যেই হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লং মার্চ। প্রথমে ৫-৬ হাজার গাড়ির পরিকল্পনা ছিল, পরে এক হাজারে নামানো হয়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোর এই কর্মসূচি নিজেই সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে সংকট বাড়ানোর প্রহসন।

-এক দফার হুমকি ও আওয়ামী লীগ ফেরানোর অভিযোগ: জোট বারবার বলছে দাবি না মানলে এক দফা (সরকার পতন)। সরকারপক্ষ (রাশেদ খাঁনসহ) অভিযোগ করছে, এই কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা। ১৯৯৬ সালের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে তারা বলছেন, জামায়াত আগেও এমন কৌশল নিয়েছিল।

ধারাবাহিক লং মার্চের পরিকল্পনা: চট্টগ্রামের পর রংপুর, তারপর খুলনা, সিলেট—এভাবে বিভাগভিত্তিক লং মার্চ চালিয়ে নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনা। এটি “জনদাবি আদায়” নয়, বরং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের জন্য চাপ সৃষ্টির কৌশল বলেই অনেকে দেখছেন।

বাস্তবতা হলো, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ-দ্রব্যমূল্যের সংকট আছে। কিন্তু সেই সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত-এনসিপি জোট যেভাবে ধারাবাহিক লং মার্চ ও এক দফার হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তা অনেকের কাছেই প্রহসন মনে হচ্ছে। জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যারা নতুন রাজনীতির কথা বলেছিলেন, তারা এখন পুরনো জোটের ব্যানারে সরকার পতনের ভাষা বলছেন—এটাই বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team