হাসিনা আমলের গুম-খুন: কে এই জিয়াউল আহসান

0

হাসিনা আমলের গুম-খুন: কে এই জিয়াউল আহসান  

শেখ হাসিনার আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম অভিযুক্ত নাম জিয়াউল আহসান। তিনি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। প্রশ্ন একটাই—এই সেনা কর্মকর্তা কীভাবে র‍্যাবের কেন্দ্রে চলে এলেন।  

জিয়াউল আহসানের জন্ম ১৯৭০ সালে ঝালকাঠিতে। ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। কমান্ডো প্রশিক্ষিত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে মেজর হিসেবে র‍্যাব-২-এ যোগ দেন। ওই বছরই তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল হয়ে র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হন। পরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এনএসআই ও সর্বশেষ এনটিএমসির মহাপরিচালক হন।  

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স ও অপারেশনের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি গুম ও হত্যার অভিযান পরিচালনা করেন। ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার চার্জ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও শতাধিক ঘটনার সূত্র তাঁর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।  

অভিযোগের তালিকায় আছে গাজীপুরের সড়কে গুলি করে হত্যা, বরগুনার চরদুয়ানী ও বলেশ্বর নদীতে লাশ ফেলা, এবং ইলিয়াস আলী ও সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো রাজনৈতিক নেতাদের গুম। সাক্ষীরা বলেছেন, এসব অভিযানের অভ্যন্তরীণ নাম ছিল ‘গলফ’—হত্যা করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া।  

র‍্যাব-৮-এর সাবেক উপ-অধিনায়ক সাব্বির রহমান ওসমানী সাক্ষ্য দিয়েছেন, জিয়াউল নিজে জোয়ার-ভাটা ও পানির গভীরতা মাপিয়ে এ ধরনের অপারেশন চালাতেন এবং বলতেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় বিষয়টি জানে। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও অন্য সেনা কর্মকর্তারাও তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  

জিয়াউল আহসান ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি পান, ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। তিনি আয়নাঘরের সঙ্গে জড়িত নন বলে আগে দাবি করেছিলেন। মামলা এখনও চলমান। তবে এখনো কোনো মামলার রায় হয় নি। 

হাসিনা সরকারের সময় গুম-খুনকে একটি সংগঠিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে তদন্ত সংস্থা ও ট্রাইব্যুনাল। জিয়াউল আহসানকে সেই ব্যবস্থার মাঠপর্যায়ের প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। বিচার শেষেই চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team