ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার ঘোষণা, রাজপথে উত্তেজনা—আবারও ‘আগুন সন্ত্রাসের’ কৌশল বেছে নিল আওয়ামী লীগ?

0

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার ঘোষণা, রাজপথে উত্তেজনা—আবারও ‘আগুন সন্ত্রাসের’ কৌশল বেছে নিল আওয়ামী লীগ?  

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন পতিত ও পলাতক শেখ হাসিনা।

আর সেই ঘোষণার পরই মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

২০ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে দিয়েছিল ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক।  এর আগে ও পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ—আর সবশেষ কমলাপুর রেলস্টেশনে হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন।

প্রশ্ন উঠছে—আবারও কি আগুন ও আতঙ্ককে রাজনৈতিক কর্মসূচির হাতিয়ার করল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ? 

২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এসবের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জড়িত। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিবি চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী এবং তাদের কাছ থেকে অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যেই ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও আগুনের উৎস বা কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ককটেল ও অগ্নিসংযোগের যেসব ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, সেগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ এখন আর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়ে নেই; সেখানে গ্রেপ্তার, সিসিটিভি বিশ্লেষণ এবং আলামত উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাইয়ে রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দলটি সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কি আওয়ামী লীগের মাঠের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে?

আর সেই তৎপরতার অংশ হিসেবেই কি আগুন, ককটেল ও আতঙ্কের রাজনীতি আবার সামনে আনা হচ্ছে?

২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ—বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগুনকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পরবর্তীতে ফোনালাপ ফাঁসের মাধ্যমে জানা যায় আওয়ামী লীগের সময় অনেক অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দলটি নিজেই জড়িত ছিল। 

এবারও যদি অগ্নিসংযোগ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় পুরোপুরি কার্যক্রম  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এর। কেননা এখন পর্যন্ত যেসব ককটেল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে এসেছে।

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার ঘোষণা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাঠে ফেরার চেষ্টা এবং তার মধ্যেই একের পর এক ককটেল ও অগ্নিসংযোগ—সব মিলিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে সেই পুরোনো প্রশ্ন:

রাজনীতিতে আবার কি ফিরছে আগুনের কৌশল ফিরিয়ে আনছে আওয়ামী লীগ? 

এর উত্তর দেবে তদন্ত—তবে এবারের ঘটনায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team