ভূরাজনৈতিক জোটে যাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারতের ঘুম হারাম!
বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। মুসলিম বিশ্বের নতুন সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এ যোগদানের প্রশ্নে সরকার, বিরোধী মহল ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে একই সুর শোনা যাচ্ছে। অনেকে একে শুধু প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, ভারতের দীর্ঘদিনের চাপের বিপরীতে এক কৌশলগত ঢাল হিসেবে দেখছেন।
জোটের মূল কাঠামো তিন দেশকে ঘিরে গড়ে উঠেছে—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। ২০২৫ সালে সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির পর ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্ককে যুক্ত করে জোটের ঘোষণা আসে। নীতি স্পষ্ট: কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। ১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জোট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়। মিসর ও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে প্রচারিত।
ঢাকায় সরকারি ভাষ্যও ইতিবাচক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, মক্কা জোট হুমকি নয়, আত্মরক্ষা। এটি মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রভাব মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও একে সার্বভৌম আত্মরক্ষামূলক উদ্যোগ বলে সমর্থন জানিয়েছেন।
ইরানের অবস্থানও লক্ষণীয়। ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, বাংলাদেশের যোগদানে তেহরান চিন্তিত নয়। তাঁর ভাষ্য, এটি ইরানবিরোধী চুক্তি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দুর্বলতার লক্ষণ।
এই জোটে গেলে সুবিধা অনেক—সৌদি জ্বালানি সরবরাহ, তুরস্কের ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা, রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজার, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ। বিশ্লেষক ড. এম শহীদুজ্জামানের মতে, জোটে গেলে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে এবং দীর্ঘ নিরাপত্তা ঘাটতির পর আত্মবিশ্বাস ফিরবে। প্রফেসর সাহাব এনাম খান বিমান প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তির কথা বলেছেন।
এই জোটের বিপক্ষে অবস্থান করছেন কিছু সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ । যেমন সাংবাদিক আনিস আলমগীর সতর্ক করেছেন, পাকিস্তান-ভারত সংঘাতে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়তে পারে। সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী প্রশ্ন তুলেছেন দায়, ইরান এবং পুরনো ইসলামি জোটগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে। ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ভারতের আচরণ জোটে যাওয়ার যুক্তি দেয়, কিন্তু হুমকি ও সুবিধা দুটোই হিসাব করতে হবে। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারি সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা যতই হোক, বাস্তবতা আরও জটিল। জোট এখনো সম্প্রসারণের পর্যায়ে। বাংলাদেশ সদস্য হয়েছে—এমন ঘোষণা হয় নি। তবু দিল্লিতে উদ্বেগের কারণ স্পষ্ট। পাকিস্তান জোটের কেন্দ্রে থাকলে যেকোনো ঢাকা-ইসলামাবাদ ঘনিষ্ঠতাকে ভারত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই পড়বে।
মক্কা প্যাক্ট তাই শুধু সামরিক কাগজ নয়। এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দিক পরিবর্তনের পরীক্ষা—জোটনিরপেক্ষতার পুরনো ধারা রাখা, না মুসলিম বিশ্বের নতুন নিরাপত্তা ছাতার নিচে যাওয়া। সিদ্ধান্তটি যতটা উচ্ছ্বাসের, ততটাই হিসাবের। আর এতেই ভারতের ঘুম হারাম। আগের আওয়ামী সরকারের মত ঢাকা এখন আর কেবল দিল্লীর দিকে তাকিয়ে নয়, বরং নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিতে এগিয়ে সামনে এমন নীতিতেই ভারতের ভীতি। এক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি সরকার অটল, অবিচল। দীর্ঘদিনের নতজানু আচরণ থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উচু করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment