আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে গুম ৭ শতাধিক!

0

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে গুম ৭ শতাধিক!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলের সবচেয়ে গুরুতর মানবাধিকার অভিযোগগুলোর একটি—বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমালোচক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে জোরপূর্বক গুম।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলে আসছিল। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে সামনে আসে।

কমিশনের কাছে জমা পড়া অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১,৬০০-এর বেশি। প্রাথমিক তদন্তে শত শত ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৭০০-এর বেশি নিখোঁজের ঘটনা তদন্তের আওতায় এসেছে—যার বড় অংশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক পরিবার বছরের পর বছর জানতেই পারেনি তাঁদের স্বজন কোথায়। কেউ ফিরে এসেছেন দীর্ঘ বন্দিত্বের পর, কেউ ফিরে আসেননি; আবার অনেক পরিবার এখনো অপেক্ষায়।

গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।

তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে সাবেক সরকারের সময়কার বিভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে কমিশন অভিযোগগুলোর প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে।

তবে প্রতিটি অভিযোগেই যে রাষ্ট্রীয় মদদে ঘটেছে তা কিন্তু নয়। কিছু ঘটনায় ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্বও রয়েছে। 

তারপরও ১৫ বছরের শাসনামলে শত শত মানুষের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার সামনে একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে—একজন নাগরিককে যদি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে তাঁর পরিবারের কাছে জবাবদিহি করবে কে?

পতিত আওয়ামী লীগের সময়ে গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি নয়; এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team