তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়? 

ডিজিটাল যুগে একটি ঘটনা শুধু ঘটলেই শেষ হয় না। ঘটনার পরপরই শুরু হয় আরেকটি লড়াই, তথ্যের লড়াই। কে আগে মানুষের সামনে ঘটনার ব্যাখ্যা হাজির করবে, কোন বয়ান সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কোন তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করবে, অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন। আর এক্ষেত্রে অনেকটাই ‘তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার’। 

কোনো ঘটনা ঘটার পর অপতথ্য ছড়ানোর গতি অনেক সময় সরকারি তথ্য প্রকাশের গতির চেয়ে বেশি। ফলে তথ্যের শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক বয়ান। 

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ। সামাজিক মাধ্যমে তাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে অপ্রতিমের ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত দাবিটি অসত্য প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে হত্যার পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। 

এখানে মূল সমস্যা শুধু গুজব নয়, গুজব ছড়ানোর সময়ের ব্যবধান। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা তথ্য না আসে, সামাজিক মাধ্যম সেই শূন্যস্থান নিজের মতো করে পূরণ করে। এরপর সত্য তথ্য প্রকাশ করলেও তা অনেক সময় প্রথম তৈরি হওয়া বয়ানের প্রভাব পুরোপুরি কাটাতে পারে না।

প্রতিবেদনে যে তথ্য-প্রবাহের কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বয়ান প্রথমে তৈরি হয়, এরপর বড় পেজ, ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সার সেটিকে ছড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সেটিকে নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে। তারপর তৈরি হয় রিলস, মিম ও ফটোকার্ড। শেষ পর্যায়ে মূলধারার আলোচনা সেটিকে আরও দৃশ্যমান করে। এভাবেই একটি যাচাইহীন দাবিও মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মতো মনে হতে পারে। 

তবে সরকারের পালটা ব্যবস্থা নিয়েও একটি ভারসাম্য জরুরি। অপতথ্য মোকাবিলার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত দ্রুত, নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর তথ্য দেওয়া, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পালটা প্রচারণা চালানো নয়।

এই জায়গায় একটি স্বাধীন ও পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সরকারি যোগাযোগকে একই ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রকৃত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত তথ্যযুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র প্রচারণা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। রাষ্ট্র যদি দ্রুত সত্য তথ্য দেয়, ভুল স্বীকার করে, প্রমাণ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আপডেট দেয়, তাহলে অপতথ্যের জন্য তৈরি হওয়া শূন্যস্থান অনেকটাই সংকুচিত করা সম্ভব। আর সেটিই হতে পারে ডিজিটাল যুগে সরকারের তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

“বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যা? ১৫ বছরের অন্ধকার অধ্যায়”

 “বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যা? ১৫ বছরের অন্ধকার অধ্যায়”

২০০৮ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪। 

বাংলাদেশের রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগ। 

এই সময়ের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিচারবহির্ভূত হত্যা, যাকে অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’। 

বিএনপির অভিযোগ, এই সময়ে সারাদেশে ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ASK-এর হিসাব বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

আর পুলিশের Special Branch-এর নথিতেও ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এক হাজারের বেশি কথিত ক্রসফায়ার ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

তাহলে প্রশ্ন,

এসব কি সত্যিই বন্দুকযুদ্ধ ছিল?

নাকি কিছু মানুষকে আগে আটক করে পরে হত্যা করা হয়েছিল?

বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করেছে, তাদের স্বজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে খবর এসেছে, তিনি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

এই অভিযোগ শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই ওঠেনি।

Human Rights Watch এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ততকালীন RAB ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র RAB-এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এরপর আসে ২০১৮ সালের মাদকবিরোধী অভিযান।

মাদক নির্মূলের নামে দেশজুড়ে অভিযান চলাকালে বহু মানুষ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুও সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। রাষ্ট্রীয় বর্ণনায় সেটি ছিল বন্দুকযুদ্ধ। কিন্তু তার পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আর তারপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। 

ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলন দমনে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

এই সময়ের হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হয়।

শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। বর্তমানে তিনি ভারতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। 

কিন্তু এই সংখ্যাটা ২ হাজার ২৭৬ হোক বা ১ হাজার ৯২৬ অথবা অন্য কোনো সংখ্যা।

সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন একজন করে মানুষ।

একটি পরিবার।

একটি জীবন।

একটি অসমাপ্ত গল্প।

তাই প্রশ্নটি শুধু কতজন মারা গেছেন, তা নয়।

প্রশ্ন হলো, কার নির্দেশে?

কোন বাহিনীর হাতে?

কোন পরিস্থিতিতে?

আর কেন তাদের মৃত্যুকে ‘ক্রসফায়ার’ বলা হয়েছিল?

প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, নথি যাচাই এবং আদালতের মাধ্যমে দায় নির্ধারণই পারে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে। 

কারণ সরকারে থাকা অবস্থায় এসব ঘটনার নির্দেশদাতা দায় এড়াতে পারে না। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র, আইন এবং মানবাধিকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।

সত্য প্রকাশের পরীক্ষা। ন্যায়বিচারের পরীক্ষা।

এবং সবচেয়ে বড় কথা,

ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকারই রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে নাগরিকের জীবন কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তার পরীক্ষা।

ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ বেছে নিয়েছেন সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী: হাসিনা, খ্রিস্টান রাষ্ট্র ও মার্কিন ইস্যু

ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ বেছে নিয়েছেন সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী: হাসিনা, খ্রিস্টান রাষ্ট্র ও মার্কিন ইস্যু

ব্লিটজ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী তার ইউটিউব চ্যানেলে ”শেখ হাসিনার বিষয়ে আমেরিকার সিদ্ধান্ত আসছে!” শীর্ষক একটি লাইভ শো করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন-যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান না নেওয়া মানে ওয়াশিংটন গোপনে হাসিনার সঙ্গে দরকষাকষি করছে, বিএনপি থেকে সরে যাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা দিয়ে হাসিনাকে ফেরাবে। তিনি একে আমেরিকার ‘হাড়ির খবর’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

তার এই এই ব্যাখ্যা আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নাকি তার মনগড়া? 

আমেরিকা যা বলেছে, যা বলেনি- 

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি বড় উত্তেজনার কারণ। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান খুঁজুক। হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা তারা নির্দিষ্ট করে বলেনি। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলা না-তোলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘খুবই সুস্থ ও শক্তিশালী’ এবং তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাবে।

এটা গোপন সংকেত নয়। এটা কূটনৈতিক নন-ইন্টারফারেন্সের ভাষা। ওয়াশিংটন বলছে না—হাসিনাকে ফেরত দাও, ফাঁসি স্থগিত করো, নিষেধাজ্ঞা তোলো। বলছে না—হাসিনাকে গ্রেপ্তার করো। বলছে শুধু, এটা ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আমরা নির্দেশ দিচ্ছি না।

শোয়েব চৌধুরী এই বক্তব্যটাকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘দরকষাকষি’ ও ‘নতুন পরিকল্পনা’ বানিয়েছেন। কিন্তু একই ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে তারা বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। যে বাক্য তিনি বাদ দিয়েছেন, সেটাই মূল বার্তা।

দ্বিতীয়ত, তারেক রহমানের দিল্লি সফর: আমন্ত্রণ আছে, ‘না যাওয়ার নাটক’ নয়- 

শোয়েব চৌধুরীর মতে, ভারত এখন তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানাবে কি না সন্দেহ। বাস্তবতা উল্টো। ভারত ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দিয়েছে। দুই পক্ষ নভেম্বরের শেষার্ধে তারিখ খুঁজছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার পরও আলোচনা থেমে যায়নি। 

দিল্লি সফর হলেই হাসিনা ইস্যুতে ‘সমঝোতা হয়ে যাবে’—এমন দাবিও অনুমান। সফরের এজেন্ডা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাণিজ্য, পানি চুক্তি, সীমান্ত—এসবই আলোচ্য। হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত যৌথ ঘোষণা আসবে—এমন কোনো সরকারি ইঙ্গিত নেই। তবুও সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী মনগড়া উক্তি দিয়েই যাচ্ছেন। 

যেসব দাবি বা গুজব তিনি বারবার বলছেন: 

তার মতে, সেন্ট মার্টিন ও মহেশখালীতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি: এই দাবি বছরের পর বছর ঘুরেছে। যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার অস্বীকার করেছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বলেছেন, তার সময়কালে এমন কোনো প্রস্তাব তিনি শোনেননি, দ্বীপটি ঘাঁটির জন্য ভৌগোলিকভাবেও অযৌক্তিক। এএফপি ফ্যাক্টচেক ও বাংলাদেশ সরকারও দ্বীপ হস্তান্তরের গুজব মিথ্যা বলেছে।

মি চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’: পূর্ব তিমুরের সঙ্গে তুলনা করে এটি উপস্থাপন করেছেন। কোনো মার্কিন নীতিপত্র, কংগ্রেস শুনানি বা প্রতিরক্ষা নথিতে এমন পরিকল্পনার প্রমাণ নেই। ইউনূসের পূর্ব তিমুর সফরকে সেই চক্রান্তের প্রমাণ বলা কূটনৈতিক সৌজন্য সফরকে ষড়যন্ত্রে রূপান্তর।

ভলকার টুর্ক ও সেনাবাহিনী- 

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ২০২৪-এর সহিংসতায় সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ দেওয়ার সতর্কতার কথা পরে বলেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সরাসরি এমন বার্তা পায়নি। একে ইউনূসকে ফেরানোর চক্রান্ত বলাটা টুর্কের প্রকাশ্য মানবাধিকার অবস্থানকে রাজনৈতিক থ্রিলারে বদলে দেয়। 

শোয়েব চৌধুরী কি ওয়াশিংটনের ভেতরের খবর আদৌ জানেন?

জানেন না। তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ের পাবলিক সারসংক্ষেপ নিয়ে নিজস্ব কাহিনি বুনেছেন। তার দীর্ঘ রেকর্ড আছে গুজব ছড়ানোর জন্য। ফ্যাক্টচেকার ও আদালতের নথিতে প্রতারণা, ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের অভিযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ফ্যাক্টচেক ইউনিটও তার লেখা ভিত্তিহীন বলেছে। এমন ব্যক্তির ‘আমেরিকা এখন যা ভাবছে’ বলাটা সূত্র নয়, অনুমান।

যুক্তরাষ্ট্র যদি হাসিনাকে ফেরাতে চাইত, তারা ‘কোনো অবস্থান নেই’ বলে চুপ থাকত না। তারা দ্বিপক্ষীয় চাপ, নিষেধাজ্ঞা বা প্রকাশ্য শর্ত দিত। এখন তারা যা করছে তা হলো—নির্বাচিত সরকারকে স্বীকৃতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাম না নেওয়া, হাসিনা ইস্যু ঢাকা-দিল্লির ঘরে রাখা।

নাটকীয়তা চাইলে সব নীরবতাকে চক্রান্ত বলা যায়। কূটনীতি পড়তে চাইলে ব্রিফিংয়ের পুরো বাক্য পড়তে হয়, শুধু যে অংশটা থ্রিলার বানায় সেটা নয়। সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী একটু বেশি চালাক হয়ে গেছেন, ইউটিউব ভিউজের জন্য হাসিনা, আইএস, আল কায়েদা ও মার্কিন ইস্যু বেছে নিয়েছেন। ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ! 

Indian Gangster Goldy Brar Added to FBI’s Top Ten Most Wanted List; $1 Million Reward for Information Leading to His Arrest


 Indian Gangster Goldy Brar Added to FBI’s Top Ten Most Wanted List; $1 Million Reward for Information Leading to His Arrest

The United States Federal Bureau of Investigation (FBI) has added Satinderjit Singh, alias Goldy Brar, from Punjab, to its notorious Ten Most Wanted Fugitives list. The FBI has announced a reward of up to $1 million for information leading to his arrest.

On September 28, 2026, the FBI’s Los Angeles Field Office announced the designation. He is the 543rd member of the list.

The FBI’s official poster lists his place of birth as Punjab, India, and his year of birth as 1994. His aliases include Goldy Brar and Satinderjit Singh Brar. He is approximately 5 feet 9 inches tall and weighs 220 pounds. He speaks Punjabi and English. The agency says he has links to California, Canada, India, and Mexico.

The FBI alleges that he is the suspected leader of the North American branch of the Lawrence Bishnoi Organized Crime Group. The group is accused of involvement in violent activities across Southern California, the United States, and Canada. These include the killing of political and religious figures, shootings, murders, kidnappings, extortion, assaults, and drug and weapons trafficking.

In July 2026, a federal court in the Central District of California in Los Angeles issued a warrant for his arrest. He faces three charges:

  • Racketeer Influenced and Corrupt Organizations (RICO) conspiracy

  • Conspiracy to interfere with commerce through extortion

  • Conspiracy to distribute and possess controlled substances

U.S. prosecutors allege that Bishnoi and Goldy Brar ordered the killing of Hardeep Singh Nijjar outside the Guru Nanak Sikh Gurdwara in Surrey, British Columbia, Canada, on June 18, 2023. Nijjar was shot and killed by two gunmen as he was leaving the parking lot.

Lawrence Bishnoi himself is from Fazilka district in Punjab. He is currently imprisoned in India. The FBI says that he operates his network from prison and that Goldy Brar served as his principal lieutenant in North America.

The investigation is known as Operation Hardball. In July, the United States indicted 37 individuals linked to three India-based international criminal organizations. Five of them remain fugitives. Goldy Brar is one of them.

Patrick Grandy, the Assistant Director in Charge of the FBI’s Los Angeles Field Office, said that Satinderjit Singh is a dangerous individual. He said that Singh was placed on the Ten Most Wanted list to help capture him and that a substantial reward had been announced.

The agency has warned that he should be considered armed, dangerous, and a flight risk. Anyone with information is urged to contact the FBI at 1-800-CALL-FBI or submit information at tips.fbi.gov.

Indian media have also widely reported the development. Goldy Brar has long been on the wanted lists of the Punjab Police and the National Investigation Agency (NIA). His name has surfaced in several cases, including the murder of Punjabi singer Sidhu Moosewala. His addition to the United States’ highest-profile fugitive list has now drawn international attention to the case.

এফবিআই-এর টপ টেন ওয়ান্টেডে ভারতীয় গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার, গ্রেপ্তারে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার


এফবিআই-এর টপ টেন ওয়ান্টেডে ভারতীয় গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার, গ্রেপ্তারে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পাঞ্জাবের সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে তাদের কুখ্যাত টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস তালিকায় যুক্ত করেছে। গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিআই লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিস এই ঘোষণা দেয়। তিনি তালিকার ৫৪৩তম সদস্য।

এফবিআই-এর অফিসিয়াল পোস্টারে জন্মস্থান লেখা আছে পাঞ্জাব, ইন্ডিয়া। জন্মসাল ১৯৯৪। উপনাম গোল্ডি ব্রার, সতিন্দরজিৎ সিং ব্রার। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, ওজন ২২০ পাউন্ড। পাঞ্জাবি ও ইংরেজি বলেন। ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডা, ভারত ও মেক্সিকোর সঙ্গে তার যোগসূত্র আছে বলে সংস্থা জানিয়েছে।

এফবিআই বলছে, তিনি লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের উত্তর আমেরিকা শাখার অভিযুক্ত নেতা। এই গ্রুপ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ। এর মধ্যে আছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হত্যা, গুলি, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হামলা এবং মাদক ও অস্ত্র পাচার।

জুলাই ২০২৬-এ লস অ্যাঞ্জেলেসের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। অভিযোগ তিনটি:

- র‍্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশনস (রিকো) ষড়যন্ত্র

- চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র

- নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ ও দখলের ষড়যন্ত্র

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে গুরু নানক শিখ গুরুদ্বারার বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিজ্জার গাড়ি পার্কিং লট থেকে বের হওয়ার সময় দুই বন্দুকধারী তাকে গুলি করে হত্যা করেন।

লরেন্স বিষ্ণোই নিজেও পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার। তিনি ভারতে জেলে আছেন। এফবিআই বলছে, জেল থেকেই তিনি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন এবং গোল্ডি ব্রার তার উত্তর আমেরিকার প্রধান লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন।

এই তদন্তের নাম অপারেশন হার্ডবল। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ৩৭ জনকে অভিযুক্ত করে। তার মধ্যে পাঁচজন এখনও পলাতক। গোল্ডি ব্রার তাদের একজন।

এফবিআই লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইন চার্জ প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেছেন, সতিন্দরজিৎ সিং বিপজ্জনক ব্যক্তি। তাকে ধরতেই তাকে টপ টেন তালিকায় রাখা হয়েছে এবং বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

সংস্থা সতর্ক করেছে, তাকে সশস্ত্র, বিপজ্জনক এবং পালানোর ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করতে হবে। কোনো তথ্য থাকলে ১-৮০০-কall-এফবিআই নম্বরে বা tips.fbi.gov-এ জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমও বিষয়টি প্রচার করেছে। গোল্ডি ব্রার দীর্ঘদিন ধরে পাঞ্জাব পুলিশ ও এনআইএ-র তালিকায় ছিলেন। সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলায় তার নাম আসে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ফেরারি তালিকায় যাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে।

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team