সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের মনে এখন এই প্রশ্নটি প্রধান: ভারত কি সত্যিই বাংলাদেশকে বন্ধু হিসেবে দেখে, নাকি প্রভাবাধীন প্রতিবেশী হিসেবে? বন্ধুত্ব শুধু কথায় নয়, আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিতে প্রমাণিত হয়।
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ভারতের সামরিক অবকাঠামো বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিলেট সীমান্তের কাছে ব্রাহ্মস মিসাইল-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, শিলিগুড়ি করিডরে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো, পানাগড়সহ বিমানঘাঁটি আধুনিকায়ন—এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে সতর্ক করে তুলেছে। ভারত এগুলোকে নিজস্ব নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে ব্যাখ্যা করলেও, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এমন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি আস্থার পরিবর্তে সন্দেহ বাড়ায়।
বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি নেয়নি। তবে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর অধিকার তার রয়েছে। যুদ্ধবিমান, মিসাইল, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—এগুলো বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত। ভারত যখন রাফায়েল, ব্রাহ্মস বা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে, তখন প্রতিবেশীদের অনুমতি নেয় না। একই নীতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির ভিত্তিতে চলবে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, জাপান, উপসাগরীয় দেশসহ সবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে—সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী। এতে কোনো দেশের অস্বস্তি বা খুশি এর কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে না। তবে এতদিনে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, বাংলাদেশ কোনো ব্লকে যাবে না, কারও অধীনতাও মেনে নেবে না।
ভারতের সাথে সম্পর্কের আরও কয়েকটি ইস্যু উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সীমান্তে সাম্প্রতিক “পুশ-ইন” ঘটনা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল রয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে পাঠানো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। এছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যুকে ভূরাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার করা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিকে ভারতের মাটিতে আশ্রয়-প্রচারণার সুযোগ দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ নয়।
ভারতের “বড়ভাইসুলভ” মনোভাব দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কে অবিশ্বাস তৈরি করেছে। প্রতিবেশীরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করলে তা সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এই মানসিকতা টেকসই বন্ধুত্বের পথে বাধা।
বাংলাদেশ দুর্বল নয়। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তাকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশ যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না, কিন্তু আত্মসম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপসও করবে না।
ভারত যদি সত্যিকারের বন্ধুত্ব চায়, তাহলে সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশের বার্তা স্পষ্ট: আমরা শান্তি ও সহযোগিতা চাই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বা প্রভুত্ব নয়। সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানই পারস্পরিক আস্থা ও টেকসই সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment