সাজেকে অনিচ্ছাকৃত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইউপিডিএফ-এর নোংরা রাজনীতি

0

 সাজেকে অনিচ্ছাকৃত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইউপিডিএফ-এর নোংরা রাজনীতি

গতত ১৮ জুলাই ২০২৬ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমা (৩০) সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে বিজিবির একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অটোরিকশা চালক হরেন্দ্র ত্রিপুরাও গুরুতর আহত হন।

এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও দুঃখজনক একটি সড়ক দুর্ঘটনা। পাহাড়ি সড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। ঘটনার পর বিজিবি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নিহত শিক্ষিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। তারা পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করে, সহানুভূতি জানায় এবং ক্ষতিপূরণসহ মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদও বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।

তবে এই সাধারণ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ, প্রসীত গ্রুপ) যেভাবে রাজনীতি শুরু করে, তা অত্যন্ত নোংরা ও নিন্দনীয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুসারে গর্ভবতী নারী মারা গেলে পেটের সন্তানকে আলাদা করে দাহ করা হয়। এই শাস্ত্রীয় প্রথা মেনেই সুমন্তি চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইউপিডিএফ সমর্থকরা মৃত শিশুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। মাসালং এলাকার ইউপিডিএফের এক নেতা বাবুধন চাকমা এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং কর্মী-সমর্থকরা তা ভাইরাল করে। উদ্দেশ্য একটাই—বিজিবির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং সাধারণ পাহাড়িদের মধ্যে সহানুভূতি আদায় করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।

শুধু তাই নয়, বিজিবির ক্ষতিপূরণ ও মানবিক উদ্যোগের সংবাদ প্রকাশ করায় কিছু পত্রিকা পোড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইউপিডিএফের কাছে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বা ধর্মীয় অনুভূতি কোনো গুরুত্ব রাখে না। তারা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ করাই এ ধরনের গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। সাধারণ দুর্ঘটনাকে ‘নিপীড়ন’ বলে চালিয়ে দেওয়া, ধর্মীয় আচারকে বিকৃত করে প্রচার চালানো এবং ক্ষতিপূরণের খবর দমন করার চেষ্টা—এগুলো তাদের চরিত্রেরই পরিচায়ক। জনগণের জীবন নিয়ে এমন নোংরা রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পার্বত্যবাসী এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে—কে প্রকৃত সেবা করে, আর কে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা লুটে। একটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাকে এভাবে ব্যবহার করা মানে মৃত শিক্ষিকা ও তার অনাগত সন্তানের স্মৃতিকে অপমান করা। এ ধরনের রাজনীতির অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo