প্রথম আলোর উদ্দেশ্য কী? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা? নাকি পাঠকের মনে সন্দেহ তৈরি করে দেওয়া?

0


প্রথম আলোর রিপোর্টটি পড়ে মনে হয়, পুলিশের দ্রুত গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তিকে ছোট করে দেখানোই মূল উদ্দেশ্য।

রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুই তরুণকে আটক করেছে, তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার হয়েছে। এরপরও প্রথম আলো স্বজনদের সন্দেহকে বড় করে তুলে ধরেছে। বলা হচ্ছে—‘দুই কম বয়সী ছেলে চারজনকে মারতে পারে না’, ‘তাদের শরীরের অবস্থা এমন নয়’। পুলিশের বিস্তারিত ভাষ্যকে পেছনে ফেলে সন্দেহের কথাগুলোকেই প্রধান করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন ওঠে—প্রথম আলোর উদ্দেশ্য কী?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা? নাকি পাঠকের মনে সন্দেহ তৈরি করে দেওয়া? সংবেদনশীল এমন একটি ঘটনায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার সুযোগ ছিল। আলামত কী পাওয়া গেছে, স্বীকারোক্তির বিস্তারিত কী, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক তথ্য কী—এসব নিয়ে গভীর তদন্ত করে রিপোর্ট করা যেত। তা না করে স্বজনদের আবেগময় সন্দেহকেই মূল ফোকাস করা হয়েছে। এতে গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। যারা ইতিমধ্যেই ‘পুলিশ ভুল লোক ধরেছে’ বা ‘অন্য কেউ জড়িত’ বলে প্রচার চালাচ্ছে, তারা এই রিপোর্টকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

সাংবাদিকতার নীতি বলে—তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করতে হবে, সন্দেহকে সত্যের মতো উপস্থাপন করা যাবে না। বিশেষ করে যখন পুলিশ ইতোমধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং স্বীকারোক্তি নিয়েছে। স্বজনদের প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রশ্নকেই একমাত্র সত্য করে তোলা এবং পুলিশের তদন্তকে হালকাভাবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়।

এ ধরনের রিপোর্ট জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। আর বিভ্রান্তিই গুজবের সবচেয়ে বড় সহায়ক।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team