‘জঙ্গি কার্ড’ ও ‘মাইনোরিটি কার্ড’: সমন্বিত রূপে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সংঘবদ্ধ প্রচারণা

0


‘জঙ্গি কার্ড’ ও ‘মাইনোরিটি কার্ড’: সমন্বিত রূপে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সংঘবদ্ধ প্রচারণা

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার হত্যার পর যে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়েছে, তা কেবল একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়। এটি আওয়ামী লীগের পুরনো জঙ্গি কার্ড এবং ভারতের মাইনোরিটি কার্ডের সমন্বিত প্রয়োগ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক নিধন ও নব্য জেএমবির সিগনেচার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২২ আগস্ট রাতে কামালকাছনায় গণপতি, স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও ছেলে আয়ুশের মরদেহ তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। পরদিন পুলিশ দুই প্রতিবেশী সনাতন তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করে। পুলিশের দাবি, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় তারা পরিবারটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, পরে বাড়িতে থেকে খায়-গোসল করে এবং ডাকাতির ছদ্মবেশ তৈরি করে।

ঘটনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী সমর্থক অ্যাকাউন্ট ও ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যরা এটিকে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার শুরু করে। মা-মেয়েকে ধর্ষণের গুজবও ছড়ায়। ভারত থেকে বিজেপি সমর্থিত নেতা মানব গুহ ও তাপস মজুমদার সরাসরি মুসলিম জঙ্গিদের হামলা বলে পোস্ট দেন। শুধু তাই নয় ভারতের মিডিয়া গুলো থেকে একের পর এক হিন্দু শিক্ষক নিহত বলে প্রচারণা চালায়। 

পুলিশের ব্রিফিংয়ের পরও ন্যারেটিভ থামেনি। দাবি করা হয় এটি জজ মিয়া নাটক, চাঁদা না দেওয়ায় হত্যা, কিংবা সশস্ত্র মৌলবাদী গ্রুপের কাজ। পুলিশ কর্মকর্তা ও আসামির শার্টের মিলকে দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সিগনেচারটা নব্য জেএমবির নিজস্ব। আওয়ামী নেটওয়ার্ক এটিকে হোলি আর্টিজানের আগে ঝিনাইদহের মতো বড় হামলার পূর্বপ্রস্তুতি বলে চালিয়ে দেয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি-জামায়াতকে জঙ্গি সমর্থক হিসেবে চিত্রিত করত। মনিরুল ইসলাম সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। এখন দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর একই ব্যক্তির মন্তব্য ব্যবহার করে ঘটনাকে জঙ্গি সিগনেচার বানানো হচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাইনোরিটি কার্ড। ভিকটিম হিন্দু—এই পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রথমে সাম্প্রদায়িক সন্দেহ তৈরি করা হয়, পরে পুলিশের অসংগতি দেখিয়ে সেই সন্দেহ জোরালো করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রচারণা বর্তমান সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা এবং বাংলাদেশকে চরমপন্থার আশ্রয়স্থল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা। মিডিয়া গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, তথ্যশূন্যতার সুযোগে একতরফা ন্যারেটিভ দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করছে, ভারতীয় কিছু মহল প্রতিবেশীর অস্থিরতাকে নিজেদের রাজনীতিতে ব্যবহার করছে।

ফরেনসিকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আসামিরা নিজেরাই সনাতন সম্প্রদায়ের। তবু ঘটনাকে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক অস্ত্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে। রংপুরের পরিবারের মৃত্যু নৃশংস। ন্যায়বিচার দরকার। কিন্তু ন্যায়বিচারের আগেই দুই কার্ডের সমন্বিত প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team