১৬ বছর গোপনে ছিল আওয়ামী লীগের সাবেক দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের সম্পদ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপির বিদেশি নাগরিকত্ব বা রেসিডেন্সি কার্ড থাকার তথ্য সংগ্রহ করে। সেই তালিকায় দুজনের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় আসে—সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং তার পূর্বসূরি এ কে আব্দুল মোমেন।
হাছান মাহমুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তিনি বেলজিয়ামের নাগরিক। ১৯৯০-এর দশকে বেলজিয়ামে ছিলেন তিনি, সেখানকার আওয়ামী লীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০০১ সালে লিম্বুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ রসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, তার বেলজিয়ামের স্থায়ী রেসিডেন্স কার্ড রয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে। উইকিপিডিয়ায় তার নাগরিকত্ব হিসেবে বেলজিয়াম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এই নাগরিকত্ব ধারণ করেছিলেন—যা বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। সরকার পতনের পর তিনি বেলজিয়ামে চলে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও বেলজিয়ামের নাগরিক ডাটায় তার নাম আছে এবং ওয়েবসাইটে তার নাগরিকত্বের বিস্তারিত তথ্য সার্চ করলেই পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হাছান মাহমুদ প্রথমে ভারতে পালিয়ে যান তারপর সেখান Turkish Airlines করে ব্রাসেলস পৌঁছান। টার্কিস এয়ার লাইন্স এর টিকেটে হাসান মাহমুদ বলজিয়াম এর নাগরিক লেখা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এ কে আব্দুল মোমেন। তিনিও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা ও শিক্ষকতা করেছেন—হার্ভার্ড ও নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী। ২০১৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। ২০২৪ এর পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি আগস্ট ২০২৪ থেকে প্রায় এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত দেশের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিলেন। এরপর চেহারা পরিবর্তন করে (দাড়ি রেখেছেন) ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন (নিউ ইয়র্কভিত্তিক মিডিয়াসহ)। একাধিক বাংলা ও ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলে তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র যান?
এছাড়াও ২০২৪ সালে দুদকের যে ২৪ জনের তালিকায় দ্বৈত নাগরিকত্ব বা রেসিডেন্সি কার্ডের কথা বলা হয়েছে, সেখানে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিছু প্রতিবেদনে মন্ত্রী হওয়ার আগে মোমেনের আমেরিকান পাসপোর্ট ধারণ করতেন সেটা স্পষ্ট আছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন না। অথচ আওয়ামী লীগের সময় পূর্ণ মন্ত্রিত্ব ছিল এরকম ২৪ জনের তালিকায় মোমেন ও হাসান মাহমুদ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন ছিল বিদেশি নাগরিক। হাছান মাহমুদের ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের রেসিডেন্সি ও নাগরিকত্বের দাবি এবং মোমেনের ক্ষেত্রে আমেরিকান নাগরিকত্ব—এই দুই তথ্যই এখন জনসমক্ষে এসেছে।
আওয়ামী লীগের দুই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এতদিন দেশের সব মিডিয়া গোপন রেখেছিল। এমনকি এটা নিয়ে সংবিধান ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার কোনো আলোচনা কেন হয় নি সেটা বিষ্ময়কর লেগেছে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment