ভারতের অন্তর জ্বালা ও তারেক রহমানকে ‘দ্রুত’ সফরে নেওয়ার তাড়া

0

ভারতের অন্তর জ্বালা ও তারেক রহমানকে ‘দ্রুত’ সফরে নেওয়ার তাড়া

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এখন খোলাখুলি বলছেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘আরও দ্রুত’ হওয়া উচিত। দুই নেতা সরাসরি বসলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, ‘সোনালি অধ্যায়’ শুরু হবে—এমন মিষ্টি কথা।

প্রশ্ন হলো, এত তাড়া কেন?

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে, ৫ আগস্ট তাকে দিল্লির মাটি থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে, তারপর এসে বলা হচ্ছে—চলুন, সফরটা তাড়াতাড়ি করি। বাংলাদেশ স্পষ্ট বলেছে, হাসিনা ও অন্যান্য পলাতকদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া সফরের ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরি হবে না। তবু ভারতের পক্ষ থেকে সফর নিয়ে এমন জোরালো তোড়জোর চলছে।

এর পেছনে কী উদ্দেশ্য?

এক. হাসিনাকে নিয়ে ভারত এখন চাপে। তাকে আশ্রয় দিয়ে রেখে কূটনৈতিক লঙ্ঘনের অভিযোগ সামলাতে হচ্ছে। তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক’ দেখানো গেলে হাসিনা ইস্যুকে পাশ কাটানো সহজ হবে।

দুই. বাংলাদেশ এখন চীন, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ভারত চায় দ্রুত তারেক রহমানকে নিজের কক্ষপথে টেনে আনতে, যাতে নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতিতে ভারতের প্রভাব বজায় থাকে।

তিন. ব্রিকস সম্মেলন সামনে। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফর হলে ভারত দেখাতে পারবে—বাংলাদেশ এখনও তাদের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী’।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো সফরের কোনো ‘সোনালি অধ্যায়’ তৈরি করবে না বাংলাদেশ। বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আবেগকে উপেক্ষা করারই নামান্তর। এটা নতজানুর সরকার নয়, বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির সরকার।

দীনেশ ত্রিবেদী বলছেন, দুই দেশের মতপার্থক্য আছে, তর্ক আছে—কিন্তু আলোচনায় সব সমাধান হবে। সুন্দর কথা। কিন্তু প্রথমে হাসিনাকে নিয়ে যে কূটনৈতিক লঙ্ঘন হয়েছে, তার জবাব দিক ভারত। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাক। তারপর কথা বলা যাবে ‘সোনালি অধ্যায়’ নিয়ে।

এখন যত তাড়া, ততই সন্দেহ বাড়ছে—ভারত আসলে কী চায়? তারেক রহমানকে সম্মান জানাতে, নাকি নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে? 

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team