রংপুরের চার হত্যা: আসামিদ্বয়ের স্বীকারোক্তির পরও ছড়াচ্ছে গুজব

0

 রংপুরের চার হত্যা: আসামিদ্বয়ের স্বীকারোক্তির পরও ছড়াচ্ছে গুজব 


রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস গতকাল ২৩ আগস্ট রাতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের সামনে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিজেরাই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এবং অপরাধ স্বীকার করেছেন।


তবে স্বীকারোক্তির পরও এলাকায় ও সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ বলছেন, হত্যার আসল কারণ অন্য কিছু হতে পারে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন ইয়াবা সেবনের তত্ত্ব নিয়ে। নিহত পরিবারের কিছু স্বজন মরদেহ হস্তান্তরের সময় মুখমণ্ডল পোড়ার মতো বিষয় উল্লেখ করে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কেউ কেউ ডাকাতি বা অন্য কোনো পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনাও তুলে ধরছেন। এই সন্দেহগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে, কারণ ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম এবং পরিবারের চারজনই একসঙ্গে নিহত হয়েছেন।


কিন্তু পুলিশের তদন্ত ও আদালতের স্বীকারোক্তি এই গুজবগুলোর বিপরীতে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, দুই তরুণ পাশের ভবন দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিল। গণপতি স্যার তাদের দেখে বাধা দিলে তারা গামছা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট ছেলেকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তারা বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে গোসল করে, খেজুর-শসা খায় এবং লুটপাটের নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ দাবি করেছে, কিছু স্বর্ণালংকারও তাদের নির্দেশে উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামিরা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং সে কারণেই রিমান্ডের প্রয়োজন হয়নি।


আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর গুজবের কমে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সন্দেহ চলমান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে স্বীকারোক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দির সব বিবরণ এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে প্রাথমিক পর্যায়েই দুই আসামির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে। পরিবারের কিছু সদস্যের সন্দেহকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ তদন্ত এখনো চলমান। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের উপস্থাপিত তথ্য এবং আদালতের স্বীকারোক্তিই ঘটনার ঘটনার সাথে মিলে যায়।


রংপুরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এখন সবার নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে। স্বীকারোক্তির পরও যদি নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে, তাহলে সেটা পুলিশ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে। আপাতত আদালতের রেকর্ডকৃত জবানবন্দি এবং পুলিশের তদন্তের বাইরে গিয়ে গুজব ছড়ানো ঠিক না ।


No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team