বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নড়বড়ে?

0

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আজ এক নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এখন আর সাধারণ কূটনৈতিক সফর নয়। এটি পরিণত হয়েছে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে। বিচারের প্রশ্নে। জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে।

ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্রিকস সম্মেলনেও। কিন্তু ঢাকা স্পষ্ট করে দিয়েছে—‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি না হলে সফর হবে না।

আর সেই পরিবেশের কেন্দ্রে রয়েছে একটি নাম। শেখ হাসিনা।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। যিনি ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে এখনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে তাঁর প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল, তাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ঢাকার বার্তা এখন সোজাসাপটা।

ভারতকে দ্রুত এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ করতে হবে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের হস্তান্তর করতে হবে।

এই দুই বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া কোনো সফর সম্ভব নয়। ঢাকা বলছে—এটি কেবল কূটনীতি নয়। এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

দিল্লি সময় চাইছে । ঢাকা চাইছে জবাব।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই অবস্থানকে ‘রেড লাইন’ বলে অভিহিত করেছে। কিন্তু ভারতের এই ক্রমাগত চাপ কি বিশ্বদরবারে ভারতের প্রতি বন্ধু হারানোর ভয়ে? বাংলাদেশের ভারসাম্য পররাষ্ট্রনীতিতে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও আমেরিকা, সবার সাথেই সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চাইছে, এটাই কি ভারতের মাথা ব্যাথা?

ভারতের সাথে বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা—সবকিছুই এখন এই একটি প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু এখন আর বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কেন্দ্রীয় কূটনৈতিক প্রশ্ন।

তারেক রহমানের ভারত সফর কবে হবে, আদৌ হবে কি না—সেটি এখনো অনিশ্চিত।

কিন্তু একটি বিষয় আর অস্পষ্ট নয়-সেটি হলো প্রত্যর্পণ।

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে—

ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক নতুন করে সহযোগিতার পথে এগোবে, নাকি আরও কিছু সময় কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় থাকবে।

এখন নজর—দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team