তারেক রহমানের ভারত সফর: চাপ নয়, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার আগে

0


তারেক রহমানের ভারত সফর: চাপ নয়, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার আগে

সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর মতো কিছু ইনফ্লুয়েন্সার গত কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রী কখনোই এমনি এমনি, শর্তহীন বা চাপের মুখে কোনো সফরে যান না। দ্বিপাক্ষিক সফর মানে শুধু ফটোসেশন নয়—এটি জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্ন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার উন্মুক্ত প্রেস ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে কলুষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে। এমন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ভারতের মাটিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে।

প্রশ্নটা সহজ। যদি বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের কোনো দাগী অপরাধী—যেমন দাউদ ইব্রাহিম, চোট্টা রাজন বা অশোক সরাফের মতো ব্যক্তিরা—প্রেস কনফারেন্স করে বক্তব্য দিত, তাহলে ভারত কী প্রতিক্রিয়া দেখাত? তারা কি এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিত? নাকি তীব্র আপত্তি জানাত? এই প্রশ্নের উত্তর না মেলা পর্যন্ত এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর কি যৌক্তিক হবে?

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ করে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অভিযুক্ত হত্যাকারীদের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশ তার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতি থেকে সরে আসবে না। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অহস্তক্ষেপ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে। চাপের মুখে নয়—মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই যেকোনো সফর হতে পারে।

দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo