জামায়াত-এনসিপির লংমার্চ: হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার রাজনীতি

0

 জামায়াত-এনসিপির লংমার্চ: হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার রাজনীতি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগামীকালের লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এই কর্মসূচি কি সত্যিই জনগণের সংকট সমাধানের জন্য, নাকি পতিত আওয়ামী লীগকে আবার প্রাসঙ্গিক করার কৌশল?

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ছয় মাস আগে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আমদানি বিঘ্নের কারণে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে, নতুন কূপ খনন করছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করছে। এসব উদ্যোগ দৃশ্যমান। অথচ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও এনসিপি এখনই রাস্তায় নামছে।

লংমার্চ তেল-গ্যাস এনে দেবে না। বরং শনিবারে ইতিমধ্যেই চাপ থাকা মহাসড়কে হাজার হাজার গাড়ি নামালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। বিভিন্ন স্থানে চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজও ব্যাহত হবে। জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার এই চেষ্টা কার স্বার্থে?

ছয় মাসেই বিরোধীরা ক্ষমতার নেশায় অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা ধৈর্য হারিয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই সরকারকে বিতর্কিত করে লাভ কী? বাস্তব বিকল্প কী আছে? আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের স্বৈরশাসন, গুম, হত্যা ও দুর্নীতির স্মৃতি এখনো তাজা। জামায়াত-এনসিপির এই কর্মকাণ্ড সেই স্মৃতিকে ধামাচাপা দিয়ে হাসিনাকে উল্টো নরমালাইজ করছে। তারা জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পুরনো শক্তিকে আবার মাঠে নামানোর সুযোগ তৈরি করছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাইয়ের বিচার দাবি করা যায়, কিন্তু সদ্য গঠিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার নামে জনদুর্ভোগ বাড়ানো গণতান্ত্রিক দায়িত্ব নয়। সময় দিলে সরকার কাজ করতে পারে। তা না করে রাস্তা অবরোধ করলে শুধু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর পেছনে আওয়ামী লীগ হাসবে।

এই লংমার্চ সংকট সমাধানের আন্দোলন নয়, বরং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। জনগণকে সেই হিসাব বুঝতে হবে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team