খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন আত্মপ্রকাশ
বিশ্ব কূটনীতির জটিল অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যেন নতুন একটি বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশ কারও ছায়ায় নয়, নিজের স্বার্থ ও মর্যাদা সামনে রেখে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়।
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া। ২ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি ১৯০ ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকাউরিসকে পরাজিত করেন। চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হয়েছিলেন।
এটি শুধু একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জাতিসংঘ নিজেই জানিয়েছে, ড. খলিলুর রহমানের সামনে রয়েছে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় আস্থা পুনর্গঠন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতিসংঘ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর এক বছরের মেয়াদ শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে।
ড. খলিলুর রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা। তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন এবং পরবর্তী চার দশকে কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক অঙ্গনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের নিউইয়র্ক ও জেনেভা কার্যালয়েও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাই তাঁকে কেবল একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর সক্ষমতার পুরোটা বোঝা যায় না। তিনি একই সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক, বহুপাক্ষিক আলোচনার পরীক্ষিত খেলোয়াড় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বকারী একজন রাষ্ট্রনায়ক।
এই জায়গাতেই বর্তমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারসাম্য, পারস্পরিক স্বার্থ এবং জাতীয় মর্যাদা। কোনো একটি শক্তির ওপর অতিনির্ভরশীল না হয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়াই একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিণত কূটনীতি।
ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বমূলক পদে নির্বাচিত হওয়া সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অভিনন্দন জানিয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, জাতিসংঘের এই নির্বাচন দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা বিস্তৃত হতে পারে। ৯৯টি ভোট কোনো ব্যক্তির জন্য শুধু সংখ্যামাত্র নয়; এটি একটি দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থারও প্রতিফলন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে এখন তাই নতুন সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা, প্রবাসী স্বার্থ, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
ড. খলিলুর রহমানের সাফল্য তাই শুধু তাঁর নিজের সাফল্য নয়—এটি বাংলাদেশের কূটনীতির সাফল্য, বাংলাদেশের সক্ষমতার সাফল্য এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার সাফল্য।
বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে নয়; বাংলাদেশ নিজের পক্ষে।
আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন আত্মপ্রকাশ।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment