৫ আগস্টের পর হিন্দু কার্ড: ভারত ও আওয়ামী লীগ এক ফ্রেমে, স্বার্থও এক

0

৫ আগস্টের পর হিন্দু কার্ড: ভারত ও আওয়ামী লীগ এক ফ্রেমে, স্বার্থও এক 

৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু প্রশ্নটা আর শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার বিষয় থাকেনি। সেটা হয়ে উঠেছে দুই পক্ষের রাজনৈতিক কার্ড। একদিকে ভারতীয় ডানপন্থী অ্যাকাউন্ট ও কিছু গণমাধ্যম, অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ—দুটোই “হিন্দু নির্যাতন”কে নিজেদের গল্পের কেন্দ্রে বসায়। উদ্দেশ্য আলাদা, ফুটেজ প্রায়ই একই।

৫ আগস্টে আওয়ামী লীগের পতনের সপ্তাহেই বিবিসি ভেরিফাই করে দেখায়, চট্টগ্রামের নবগ্রহ মন্দিরে আগুনের দাবি ছিল ভুল; আগুন লেগেছিল পাশের আওয়ামী লীগ অফিসে। লিটন দাসের বাড়ি পোড়ানোর ক্লিপ আসলে মাশরাফি বিন মর্তুজার বাড়ির। ঝিনাইদহের শহিদুল ইসলাম হিরণ ও চাঁদপুরের সেলিম খান—দুজনই মুসলিম আওয়ামী লীগ নেতা—গণপিটুনির ভিডিও “বৃদ্ধ হিন্দুকে ফাঁসি” হয়ে ছড়ায়। কোহিনূর আখতারের আহত চেহারা “হিন্দু নারী ধর্ষণ” বনে যায়; তিনি কৃষক লীগের মুসলিম নেত্রী। নড়াইলের ২০২২ সালের হিন্দু বাড়িতে হামলা, রাঙামাটির মুসলিম দোকানের দুর্ঘটনাজনিত আগুন, খালেদা জিয়ার জানাজায় “জয় বাংলা” নিয়ে মারধর—সবই পরে “সাম্প্রতিক হিন্দু হামলা” হয়ে ফেরে। এসবের বড় অংশের উৎস ভারত। The Dissent-এর হিসাবে ২০২৬ এ নির্বাচনের আগের ৬০ দিনে ভারত-উৎস ৩৯টি ব্যাপক ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ায়; তার মধ্যে এআই ভিডিওও আছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সেই সময় পাঁচ হিন্দু নিহতের কথা বলেছিল, যাদের দুজন রাজনৈতিক কর্মী। সংখ্যাটা “গণহত্যা”র ক্যাপশনের চেয়ে অনেক ছোট।

আওয়ামী লীগ একই কার্ড উল্টো দিক থেকে খেলে। তাদের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিবৃতি বলে, ৫ আগস্টের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদোন্নতি বন্ধ, জমি-ব্যবসা দখল চলছে; প্রমাণ হিসেবে তোলা হয় রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবার হত্যা। ঘটনা বাস্তব—চারজনকে গলা টিপে মারা হয়। পুলিশের বয়ান ইয়াবা ও পুরনো জমি-বিরোধ; ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। আওয়ামী লীগ সেটাকে রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বানায়, যাতে নিষিদ্ধ দলের প্রত্যাবর্তন “সংখ্যালঘুর রক্ষক” হয়ে ওঠে। চৈতালী চক্রবর্তীর মতো সমর্থকরা আলাদা করে মেক্সিকোর কার্টেল-হত্যা, আত্মহত্যা ও পুরনো মিছিল দিয়ে রাজনৈতিক নির্যাতনের গল্প বানায়।

দুর্গাপূজা সামনে। এই মৌসুমে দুই কার্ডই জেগে ওঠে। ভারতীয় নেটওয়ার্ক পুরনো মণ্ডপ-হামলা ও এআই ক্লিপ ছাড়বে, যাতে ঢাকাকে “হিন্দুদের জন্য অনিরাপদ” দেখানো যায়। আওয়ামী লীগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে “পতনের পর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন” বলে তুলবে, যাতে নিজেদের পতনকে সংখ্যালঘুর বিপদ হিসেবে বিক্রি করা যায়। দর্শকের কাজ তিনটি: ভিডিওর তারিখ, ভুক্তভোগীর পরিচয়, ক্যাপশন কে লিখেছে। পূজা নির্বিঘ্নে হলে কিংবা শান্ত থাকলেও হিন্দু কার্ডের মৌসুম আগেই শুরু হয়—ভারতের প্রচারে, আওয়ামী লীগের ফ্রেমে। 

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team