শেখ হাসিনা নিজেই ফিরবে নাকি ফেরানো হবে? চুক্তি কী বলে?
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানো এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন। আইনি পথ খোলা, কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ভারতের কৌশলগত হিসাব সেই পথ আটকে রেখেছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রত্যর্পণ হয়নি। দিল্লি বারবার বলেছে, অনুরোধ পরীক্ষাধীন।
হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ ব্যাপক গণ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়েন এবং তখন থেকে ভারতে। অন্তর্বর্তী সরকার ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ চাওয়া নোট পাঠায়। ১৭ নভেম্বর ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ের পর হাসিনাকে ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ে। তারেক রহমানের সরকারও প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বারবার ফেরানোর অনুরোধ করেছে—পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে, হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে, এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রিসেটের শর্ত হিসেবে। এরপর ৫ আগস্ট ২০২৬ এ দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, যেখানে তিনি ডিসেম্বরে ফেরার কথা বলেন, কিন্তু এটা নিয়ে ঢাকার প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। পরে ভারত সরকার বলে, হাসিনার অনুষ্ঠানটি ছিল বেসরকারি আয়োজনে।
২০১৩-এর প্রত্যর্পণ চুক্তি হাসিনাকে বাধ্যতামূলক হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। এ চুক্তিতে যেসব ধারা আছে তার মধ্যে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধে প্রত্যাখ্যানের সুযোগ আছে; আবার হত্যা বা মানবহত্যাকে রাজনৈতিক বলা যায় না—এই ব্যতিক্রমও আছে।
বিশ্লেষকদের কাছে একে এক ধরনের কূটনৈতিক ফাঁদ মনে হচ্ছে। একদিকে যুক্তি, অন্যদিকে হাসিনাকে হস্তান্তর করলে অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে এই বার্তা যায় যে রাজনৈতিক হাওয়া বদলালে ভারত পুরোনো মিত্রকে আশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে যুক্তি, প্রত্যর্পন না করলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট হচ্ছে না, বাণিজ্য-ট্রানজিট-নদীর আলোচনাও আটকে থাকে। অনেকে বলছেন, চুক্তির ফাঁক দিয়ে দিল্লি হস্তান্তর এড়াতে পারে; হাসিনাকে সরাসরি হস্তান্তর না করে, কালক্ষেপন করে ফাইল ঝুলিয়ে রাখাটেই কৌশল হিসেবে নিয়েছে দিল্লী। এবং এটাই তাদের বর্তমান কৌশল। তৃতীয় কোনো দেশে হাসিনাকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও উঠবে নীরবে। কিন্তু হাসিনার নিজে ফেরার ক্রমাগত হুমকি এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে চাওয়া নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তিনি নিজেও ফেরা থেকে সরে যেতে পারেন।
তবে আর যাই হোক, হাসিনাকে ফেরানো বর্তমান সরকারের জন্য কেবল আইনি দাবি নয়। ভোটারের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল, পলাতকদের ফেরানো হবে। ভারত সফর নিয়ে এজন্য ঢাকা তাড়াহুড়ো করছে না, কারণ এই বিরোধ ও বিশ্বাসের ঘাটতি সম্পর্ক রিসেটকে আগের চেয়ে কঠিন করেছে। যত দিন হাসিনা ভারতের মাটিতে থাকবেন, তত দিন প্রত্যর্পণ একটি আইনি ফাইল থাকবে না—থাকবে দুই রাজধানীর মাঝখানে গোঁজা একটি কাঁটা। কাঁটা না সরালে হাত মেলানো যায়, কিন্তু মুঠো বাঁধা যায় না।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment