বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা


বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক ডাক্তার দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়েছেন। কারণ স্পষ্ট—তারা বাংলাদেশি। অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে তিনি রাস্তায় তাদের থামিয়ে গালিগালাজ করে মারধর করেন। নসরীনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের ওপর এই আক্রমণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা সত্যিই বাংলাদেশি। এ ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশি পরিচয় শুনলেই ভারতের অনেক জায়গায় মব বা ব্যক্তিগত আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে ইদানীং। মুসলিম পরিচয় আর বাংলাদেশি পরিচয় দুটোই অনেকের কাছে সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক মাস আগে অভিনেতা মোশাররফ করিম কলকাতায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবকে এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব দেখে স্পষ্ট যে, ভারতে বাংলাদেশিদের প্রতি সহনশীলতা কমে গেছে। তবুও অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়ান। কেন?  একটু ভেবে দেখুন, ভ্রমণ বা শপিং এর জন্য কি এত ঝুঁকি নেওয়ার দরকার আছে?

অন্তর্বর্তী  সরকারের সময় ভিসা বন্ধ বা সীমিত করার সময় ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম ও হোটেল ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছিল। অনেক হোটেল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ করেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আত্মচিৎকার করেছেন। বাংলাদেশিরা না গেলে তারা দুমুঠো খেতে পারবে না বলে অনেকে বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। অথচ সেসময় কিন্তু বাংলাদেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। চিকিৎকার কথা যদি বলি ভারত না গিয়ে বরং চীন, তুরস্ক, ইরানসহ অন্যান্য দেশে সস্তায় চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সেই সময়ে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হননি। বরং ভারতের ন্যারেটিভ ভেঙে গেছে। তারা ছাড়া বাংলাদেশ অচল—এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন ট্যুরের জন্য নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, চীনসহ পুরো বিশ্ব খোলা। সেখানে ধর্মীয় প্রতিহিংসা বা মবের ভয় নেই। স্ক্যামারদেরও কম। তাহলে শুধু ভারতেই ভিড় করার কী প্রয়োজন? বেইজ্জতির ঝুঁকি নিয়ে কেন যেতে হবে?

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাওয়া যায়। কিন্তু আনন্দ ভ্রমণ বা সাধারণ ট্যুরের জন্য এ মুহূর্তে ভারতের পরিবেশ উপযোগী নয়। বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গে যখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে পরিবেশটা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। এর চেয়ে বরং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দিন। ডাক্তার-হাসপাতাল-টেস্ট-ঔষধ ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনুন। বাইরের দরজা খোলা আছে। নিরাপদ জায়গা বেছে নিন।

#BoycottIndiaTourism #ProtectBangladeshis #SafeTravelChoices

জুলাই চেতনা ধারণ করেই রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

 


জুলাই চেতনা ধারণ করেই রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম ২৪ জুলাই শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই ২০২৪’ অনুষ্ঠানে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার বা অবহেলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

শামছুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে চায়। একাত্তর যেমন স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুশাসন ও মানুষকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এই চেতনার মূল ভিত্তি হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

তিনি জুলাই চেতনাকে তিনটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করেছেন। প্রথম স্তম্ভ—বৈষম্যের অবসান। কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চনার শিকার না হয়। দ্বিতীয় স্তম্ভ—জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা। ক্ষমতা যেন এককেন্দ্রিক না হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সংবিধানিক পরিধির মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তৃতীয় স্তম্ভ—জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন। অতীতের ক্ষত সারিয়ে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও গণতন্ত্র হত্যার ধারাবাহিকতায়। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারাও ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ২৯ জুলাই প্রেসক্লাবের সামনে এবং ৩০ জুলাই শহীদ মিনারে তাদের একাত্মতা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সেনা নিবাসে গণমিছিল ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে শামছুল ইসলাম জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিতে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। শহীদ ও আহত যোদ্ধা পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ-পুনর্বাসনের কাজ চলছে। বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে বোর্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেজর সিনহা হত্যা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি জানান।

সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে মেধা ও যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাহিনীর আনুগত্য থাকবে সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সত্য ও ইতিহাস যেন অপব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত না হয়। কেউ কেউ জুলাইকে নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা মানে সত্যকে ধারণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।

জাতীয় সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে শামছুল ইসলাম বলেন, বিভক্ত হলে আধিপত্যবাদী শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করতে চায় না। জুলাইয়ের চেতনা ঐক্যের শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্র ও জাতি পুনর্গঠনে ঐক্যের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সম্মিলনকে তিনি জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের সাহসের সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

 প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-তদবিরের পুরনো ধারা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও রেকর্ডিং, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং প্রতিদিনের ফল প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।


নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। প্রবেশপত্র যাচাই থেকে শুরু করে ৪০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ, মেডিক্যাল পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপ সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। দৌড়ের পুরো সময় রেকর্ড করা হয়, যাতে কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ না থাকে। অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পথে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়, যাতে পুনরায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকে।


শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিই নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরা মাঠে উপস্থিত থাকছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি প্রতিদিন পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে। নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. শহীদ আতাহার হোসেন সার্বক্ষণিক মাঠে অবস্থান করছেন, আর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কাগুজে তদারকির বদলে বাস্তব উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক নজরদারিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রতিদিনের শারীরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের তালিকা ফায়ার সার্ভিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীদের তদবিরের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ার প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উদ্দেশে দালাল ও প্রতারকদের প্রলোভন এড়াতে সতর্কতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। মাঠের ভেতর-বাইরে দালালবিরোধী ব্যানার টাঙানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ হবে, ততই অনিয়ম, তদবির ও দালালচক্রের প্রভাব কমবে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও সংরক্ষণ এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপস্থিতি শুধু বর্তমান প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখছে না, ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাইয়েরও সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের ব্যবস্থা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


লিখিত পরীক্ষা জুলাইয়ে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এই প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ মডেল যদি সফল হয়, তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের স্বচ্ছতা আনতে উৎসাহিত হতে পারে। অনিয়মের পথ বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারি চাকরির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে এবার প্রযুক্তির কড়া নজরদারি

 ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে এবার প্রযুক্তির কড়া নজরদারি


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগে অনিয়ম রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও রেকর্ডিং এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা হচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে শারীরিক পরীক্ষা চলছে। ৪০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ ও মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নির্বাচিতদের তালিকা ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছে। অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে বাইরে পাঠানো হয়।


মহাপরিচালকসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি তদারকি করছেন। দালালদের প্রলোভন এড়াতে প্রার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা জুলাইয়ে এবং নিয়োগ আগস্টে শেষ হওয়ার কথা।


প্রযুক্তি ও কঠোর নজরদারির এই মডেল সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

ফায়ার সার্ভিসকে টার্গেট করে অপপ্রচার: গ্রেফতার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক

 ফায়ার সার্ভিসকে টার্গেট করে অপপ্রচার: গ্রেফতার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগে রাজধানীতে গ্রেফতার হয়েছেন অনলাইন পোর্টাল ‘সকালের সংবাদ’-এর কথিত সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক। গত ২১ জুলাই রাতে মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২২(২), ২৫(১) ও ২৭-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


তদন্তসূত্র জানায়, হাফিজুর রহমান শফিক একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রতারণামূলক চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী। চক্রটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস নিজে কোনো মামলা করেনি। অথচ অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করে আসছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে চাপ সৃষ্টি করা।

বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস নিয়োগে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করে অনিয়মের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। ঠিক এই সময়ে এ ধরনের অপপ্রচার চক্রের তৎপরতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত ও চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team