জুলাইকে ধ্বংস করছে কারা?

 


জুলাইকে ধ্বংস করছে কারা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মাস শেষ হয়ে গেল। অথচ এই এক মাসে চোখে পড়ার মতো কোনো বড় মাসব্যাপী কর্মসূচি চোখে পড়ল না—যেখানে শহীদদের স্মরণ, আহতদের সম্মান, পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কোনো জাতীয় আহ্বান বা ঐক্যবদ্ধ সমাবেশ থাকবে। উল্টো যা চোখে পড়ল, তা হলো রাজনৈতিক কোন্দল, গালি-গালাজ আর পারস্পরিক হুমকি।

এনসিপি তাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’ বা ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির নামে মাঠে নেমেছে। কিন্তু সেই পদযাত্রা শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষে গড়িয়েছে। হবিগঞ্জে পদযাত্রার পর নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদের নামে এনসিপি নেতারা বিএনপিকে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও কটূক্তি ও হুমকি দিয়েছেন। রাজপথ যেন শহীদদের স্মৃতিচারণের জায়গা নয়, বরং দলীয় প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়ার মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

কোথায় গেল সেই জুলাইয়ের চেতনা? যে চেতনায় হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমেছিল, গুলি খেয়েছিল, চোখ হারিয়েছিল, জীবন দিয়েছিল? কোথায় সেই সভা-সমাবেশ, যেখানে শুধু আহত ও নিহতদের নাম উচ্চারিত হবে, তাদের পরিবারের কান্না শোনা যাবে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবি উঠবে? কোথায় সেই নীরব শ্রদ্ধা, যেখানে কোনো দলের পতাকা বা নেতার বক্তৃতা থাকবে না—শুধু শহীদদের স্মৃতি?

এটা কি নিছক অবহেলা? নাকি ইচ্ছাকৃত?

জুলাইকে যদি শুধু রাজনৈতিক পুঁজি বানিয়ে রাখা হয়, যদি শহীদদের রক্তকে শুধু দলীয় বক্তৃতার মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই জুলাই ধীরে ধীরে মরে যাবে। যারা আজ পদযাত্রার নামে বিএনপিকে গালি দিয়ে মাঠ গরম করছে, তারা কি সত্যিই জুলাইয়ের উত্তরাধিকার রক্ষা করছে? নাকি জুলাইকে ধ্বংস করে নিজেদের রাজনৈতিক জায়গা তৈরির চেষ্টা করছে?

জুলাই কোনো দলের সম্পত্তি নয়। এটি জনতার অভ্যুত্থান। শহীদ ও আহতদের স্মৃতি যদি দলীয় কোন্দলের আড়ালে হারিয়ে যায়, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু গালি-গালাজ আর সংঘর্ষের ইতিহাসই শুনবে—সেই রক্তাক্ত রাজপথের প্রকৃত গল্প নয়।

যারা জুলাইকে বাঁচাতে চায়, তাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শহীদদের নামে সভা করতে হবে, আহতদের পাশে দাঁড়াতে হবে, পরিবারগুলোকে সম্মান জানাতে হবে। নয়তো একদিন দেখা যাবে—জুলাই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি মাস হয়ে রয়ে গেছে, আর তার চেতনা ধ্বংস হয়ে গেছে রাজনৈতিক স্বার্থের অগ্নিতে।

জুলাইকে ম্লান করছে কারা?

 


জুলাইকে ম্লান করছে কারা?

জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন, আবার অনেকে আজও সেই ঘটনার শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বহন করছেন। এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, গুম, বিচারহীনতা এবং রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক গণজাগরণ। তাই জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ মানে শুধু একটি তারিখ স্মরণ করা নয়; এর পেছনের কারণ, প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, জুলাই মাসজুড়ে সেই স্মৃতিচর্চা কি আমরা যথেষ্ট দেখেছি?

যেসব রাজনৈতিক শক্তি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির সমন্বয়কেরা জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের দাবিদার, তাদের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল মাসব্যাপী স্মরণমূলক কর্মসূচি। প্রত্যাশা ছিল শহীদদের স্মরণসভা, আহতদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান, শহীদ পরিবারের সঙ্গে সংহতি, গণশুনানি, গবেষণা প্রকাশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ।

কিন্তু জনপরিসরে যে চিত্র বেশি দৃশ্যমান হয়েছে, তা হলো রাজনৈতিক বক্তব্য, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কোথাও কোথাও পদযাত্রা বা সমাবেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করাই যেন মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—জুলাইয়ের মূল চেতনা কি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আড়ালে চাপা পড়ছে?

আরও একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জুলাই অভ্যুত্থান কেন হয়েছিল? যে বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই বাস্তবতাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

জুলাইজুড়ে কি আমরা এমন কোনো বড় প্রামাণ্যচিত্র উৎসব দেখেছি, যেখানে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ, নিহত-আহতদের সাক্ষ্য বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে? পতিত সরকারের আমলে আলোচিত দুর্নীতি, গুম, নির্যাতন ও বিচারহীনতার নথিভিত্তিক প্রদর্শনী কি আয়োজন করা হয়েছে? জুলাইয়ের গ্রাফিতি, আলোকচিত্র, ভিডিও আর্কাইভ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার কিংবা তথ্যভিত্তিক ডকুমেন্টারি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক কোনো উদ্যোগ কি চোখে পড়েছে?

এসব উদ্যোগ থাকলে জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকত না; বরং একটি জীবন্ত জাতীয় স্মৃতিতে পরিণত হতো। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানতে পারত কেন মানুষ জীবন দিয়েছিল, কী ছিল সেই আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি এবং কোন বাস্তবতার বিরুদ্ধে সেই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

জুলাই স্মৃতিকে স্মরণের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত কি ইচ্ছাকৃত। যদি একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচর্চার চেয়ে দলীয় রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়, তাহলে সেই অভ্যুত্থানের মূল বার্তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতি তখনই হয়, যখন শহীদদের আত্মত্যাগ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছায়ায় ঢাকা পড়ে। একটি গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি জাতির সম্মিলিত স্মৃতি। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন গবেষণা, দলিল সংরক্ষণ, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ ও আহতদের জীবনকাহিনি তুলে ধরা এবং সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চা।

আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করছি, নাকি শুধু জুলাইকে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছি? যদি স্মৃতির চেয়ে স্লোগান, গবেষণার চেয়ে বক্তৃতা এবং শহীদদের চেয়ে দলীয় প্রতিযোগিতা বেশি গুরুত্ব পায়, তাহলে জুলাইকে ম্লান করে বলে প্রচারিত এমন ব্যক্তিরা  বা দল। এটা কি আমাদের সম্মিলিত রাজনৈতিক ব্যর্থতা? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য? 

পুলিশ ‘বাহিনী’ নয়, ‘সংস্থা’: ভাষার এই পরিবর্তন কি সময়ের দাবি?

Uploading: 2996837 of 2996837 bytes uploaded.

পুলিশ ‘বাহিনী’ নয়, ‘সংস্থা’: ভাষার এই পরিবর্তন কি সময়ের দাবি?


শব্দ শুধু ভাষার অলংকার নয়; রাষ্ট্রের দর্শনও প্রকাশ করে। একটি রাষ্ট্র তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী নামে ডাকে, সেটি সেই প্রতিষ্ঠানের চরিত্র, দায়িত্ব ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে একটি বার্তা দেয়। এ কারণেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশ পুলিশকে আমরা কি "পুলিশ বাহিনী" বলব, নাকি "পুলিশ সংস্থা" বা "আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা" বলব?

ঐতিহাসিকভাবে "পুলিশ বাহিনী" শব্দটির উৎস ঔপনিবেশিক শাসন। ১৮৬১ সালের ব্রিটিশ Police Act-এ Police Force শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার এমন একটি পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উপনিবেশিক শাসন টিকিয়ে রাখা। সেই ব্যবস্থার ভাষাও ছিল কর্তৃত্বকেন্দ্রিক। "Force" শব্দটি তাই কেবল প্রশাসনিক পরিভাষা নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

কিন্তু স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের ভূমিকা কি এখনও সেই একই? উত্তর হলো—না।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পুলিশকে Civilian Law Enforcement Agency বা বেসামরিক আইন-প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাদের কাজ যুদ্ধ করা নয়; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তাদের প্রতিপক্ষ কোনো বিদেশি সেনাবাহিনী নয়; অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও আইনভঙ্গ। তাদের অস্ত্র আছে, কিন্তু সেই অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা সংবিধান, আইন ও বিচারিক তদারকির অধীন। এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যই পুলিশকে সামরিক বাহিনী থেকে পৃথক করে।

বিশ্বের অনেক দেশ এ বাস্তবতা ভাষায়ও প্রতিফলিত করেছে। যুক্তরাজ্যের রাজধানীর পুলিশ সংস্থার নাম Metropolitan Police Service। এখানে "Service" শব্দটি কেবল নামের পরিবর্তন নয়; এটি একটি নীতিগত ঘোষণা—পুলিশ জনগণের সেবক, শাসক নয়। কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপের বহু দেশে সরকারি নথিতে পুলিশের পরিচয় "Law Enforcement Agency" বা "Police Service" হিসেবে বেশি গুরুত্ব পায়। এমনকি যেখানে "Police Force" নামটি রয়ে গেছে, সেখানেও পুলিশকে সামরিক বাহিনীর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; বরং একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাই বজায় থাকে।

বাংলাদেশেও বাস্তবতা একই। বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর অংশ নয়। সংবিধানে সশস্ত্র বাহিনী বলতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে বোঝানো হয়েছে। পুলিশ একটি পৃথক বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, যার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ তদন্ত, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন একাডেমিক গবেষণায়ও বাংলাদেশ পুলিশকে একটি civilian police organization হিসেবেই বর্ণনা করা হয়।

তাহলে প্রশ্ন আসে—"বাহিনী" শব্দটি ব্যবহার করলে আপত্তি কোথায়?

আইনগতভাবে "পুলিশ বাহিনী" ভুল নয়। কারণ ঐতিহাসিকভাবে Police Force থেকেই এর উৎপত্তি। কিন্তু ভাষা কেবল আইন অনুসরণ করে না; সময়ের সঙ্গে সমাজের ধারণাও প্রতিফলিত করে। "বাহিনী" শব্দটি বাংলা ভাষায় সাধারণ মানুষের মনে প্রথমেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর ধারণা তৈরি করে। এতে পুলিশের সেবামূলক পরিচয়ের চেয়ে বলপ্রয়োগকারী পরিচয় বেশি সামনে আসে। অন্যদিকে "সংস্থা" বা "আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা" শব্দটি প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক অবস্থান, জবাবদিহি এবং নাগরিকসেবার চরিত্রকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

এটি কেবল শব্দের বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রের দর্শনের প্রশ্ন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। বিশ্বের বহু দেশে কমিউনিটি পুলিশিং, মানবাধিকারভিত্তিক পুলিশিং এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে ভাষার এই পরিবর্তনও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশেও যদি আমরা একটি আধুনিক, পেশাদার, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তবে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষায় "পুলিশ সংস্থা" বা "আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা" শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস অস্বীকার করা হবে না; বরং ইতিহাসের উত্তরাধিকারকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।

রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বদলায় সংস্কারের মাধ্যমে, আর সংস্কারের সূচনা অনেক সময় ভাষা থেকেই হয়। "বাহিনী" থেকে "সংস্থা"—এই পরিবর্তন হয়তো ছোট একটি ভাষাগত পদক্ষেপ, কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা। 

তাই পুলিশ সংস্কারের প্রথম ধাপ শুরু হোক ‘পুলিশ সংস্থা’ নামকরণ দিয়েই। 

পতিত শক্তির নাশকতামূলক খেলা, জঙ্গি কার্ড এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপ।

পতিত শক্তির নাশকতামূলক খেলা, জঙ্গি কার্ড এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপ।

গত জুলাই মাসে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং ৩০ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় দুটি প্রাণঘাতী আইইডি উদ্ধার হয়েছে। একটি ছাতার ভেতরে লুকানো পাইপ বোমা, অন্যটি মুদি দোকানের সামনে রেখে যাওয়া প্রেশার কুকার বোমা। এরপর ১ আগস্ট তেঁজগাঁও মেট্রো স্টেশন ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তা পাওয়ার গুজব ছড়ায়। উভয় ক্ষেত্রেই জনবহুল স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সৌভাগ্যক্রমে বিস্ফোরণের আগেই সেগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনাগুলো নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ও গুজব নতুন সরকারের বিরুদ্ধে পতিত শক্তির পরিকল্পিত নাশকতামূলক প্রয়াসের ইঙ্গিত বহন করে।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। ঠিক এ সময়ে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার ও সন্দেহজনক বস্তার গুজব ছড়ানো কাকতালীয় বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, পতিত আওয়ামী লীগসহ কিছু স্বার্থগোষ্ঠী দেশে অস্থিরতার ছবি তুলে ধরে নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার মতো সমন্বিত নয়, তবে এগুলো বিচ্ছিন্ন কিন্তু পরিকল্পিত। প্রেশার কুকার বা ছাতার মতো আইইডি তৈরি সাধারণ অপরাধীর কাজ নয়; এতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য প্রাণহানি ছাড়াও আতঙ্ক সৃষ্টি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল দেখানো। তেঁজগাঁও ও মিরপুর-১০-এর গুজবও একই উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ও সতর্ক। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উভয় বোমা নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করেছে। মেট্রো স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুজবের বিষয়ে তদন্ত চলছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বত্র তৎপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, যা দায়ীদের শনাক্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এতে জনমনে আস্থা আরও বাড়বে এবং অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির পুরনো জঙ্গি কার্ড আর কতদিন চলবে, সে প্রশ্ন এখন জোরালো। সরকার জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা স্বার্থগোষ্ঠী পরিস্থিতি ঘোলাটে করে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে চাইলেও সরকারের দৃঢ় অবস্থান তা প্রতিহত করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণের সহায়তায় আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, এ ধরনের নাশকতামূলক প্রয়াস ও গুজব সরকারের সফলতায় বাধা দিতে পারবে না। দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের মত। দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের সতর্ক প্রহরাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।

Who Plays the Militant Card When the BNP Is in Power?

Who Plays the Militant Card When the BNP Is in Power?

On 30 July, a pressure cooker bomb was recovered in Ashulia. On 24 July, a pipe bomb concealed inside an umbrella was found beneath Motijheel Metro Rail Station. Both devices were left in crowded public places by unidentified individuals. Both were discovered before they could explode. The election is over, and the BNP is now in power. Yet it is at precisely this moment that such incidents are occurring.

The obvious question is: Who plays the militant card when the BNP is in power?


Many still remember 2005. At the time, the BNP–Jamaat coalition government was in office under Prime Minister Khaleda Zia. On 17 August 2005, nearly 500 bombs exploded across 63 districts within just half an hour. Jama'atul Mujahideen Bangladesh (JMB) claimed responsibility. Courts, government buildings, and public places were targeted, while leaflets calling for Islamic rule were distributed. Although the death toll was relatively limited, the attacks spread fear across the country.


The same question arose then. How could such a large-scale militant campaign take place while the BNP was in power? Some argued that it reflected a failure of the government. Others suggested it was a calculated attempt to put the government under pressure. At the time, the Awami League was the main opposition party and accused the government of failing to maintain law and order.


Looking at today's situation, it appears that history may be repeating itself.


Could the defeated and ousted Awami League now be reverting to the same old strategy? Is it trying to portray Bangladesh as unstable under the new government by creating the impression of renewed militant activity? Is the objective to convince both the public and the international community that security deteriorates whenever the BNP governs?


Or is the reality even more complex? Could a foreign power or a regional interest group be seeking to exploit Bangladesh's internal politics by creating confusion and instability?


Similar questions were raised in 2005. Even then, some argued that militant violence might not simply reflect government failure but could also involve deliberate provocation by political rivals or external actors. Those same questions have resurfaced today.


Constructing a pressure cooker bomb or an umbrella IED is not a simple task. It requires technical expertise, access to materials, and careful planning. Choosing crowded public places and sensitive moments suggests that the objective may extend beyond causing casualties. It may also be intended to spread fear and expose perceived weaknesses in the government's security apparatus.


If militant or terrorist incidents repeatedly occur while the BNP is in office, who stands to benefit the most? Those who seek to portray the government as ineffective. Those who want to undermine public confidence. Those who wish to damage Bangladesh's image in the eyes of the international community.


The new government's greatest challenge is to identify those responsible through a swift, credible, and transparent investigation. Otherwise, an old narrative may once again gain momentum—that militant activity inevitably rises whenever the BNP is in power.


The question therefore remains, just as it did in 2005: Who plays the militant card when the BNP is in power? Is it the defeated and ousted Awami League? Or are foreign actors operating from the shadows? Until those responsible are identified and their motives established, suspicion and uncertainty will continue to linger.

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team