শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

 শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকার রাস্তায় যে গণঅভ্যুত্থানের ঝড় উঠেছিল, তার ধাক্কায় ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এখন আবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরতে চান—দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে। সরাসরি আত্মসমর্পণ করেই।

তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে।” এই ‘যেতেই হবে’ শব্দ দুটি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তিনি কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি নির্বাসন থেকে রাজনৈতিক জায়গা ধরে রাখার জন্য একটি ঘোষণা দিচ্ছেন?

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে আহত-নিহতদের ব্যাপারে এখনো তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, দায় স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং হুমকি-ধামকি ও ‘দেখে নেব’ ধরনের কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি ঘৃণা এত তীব্র।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার ব্যাপারে ভারতের সাথে কথাবার্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এও বলা হচ্ছে- হাসিনা ফিরলে তাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আদালত রায় সংশোধন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে ফেরার পথও সহজ নয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে 'আইনি' ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে ভারত বলেছে, এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয় এবং এ বিষয়টিও সে অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।' এমন পরিস্থিতিতে হাসিনার ‘আমাকে যেতেই হবে’—এই কথা কি সত্যিকারের সাহস, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল?

ঢাকার রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করেন, এটা শুধুই ঘোষণা। আসলে ফেরার সম্ভাবনা খুব কম। আবার কেউ কেউ বলছেন, যদি ডিসেম্বরে সত্যিই পা রাখেন, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। যদিও হাসিনা নিজে বলছেন, জনগণই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু জনগণের রায় নেওয়ার আগেই এই ‘ফিরতেই হবে’ ঘোষণা রাজনীতিতে হাসিনার নতুন কৌশল।

শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে তিনি ফিরবেন কি না। তবে পলাতক আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের মতে, হাসিনার এই বক্তব্য কৌশল নাকি সত্যিকারের ফেরা তা সময়ই বলে দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক কৌশল? জনগণের ঘৃণা ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি যেখানে এখনো তাজা, সেখানে এই ঘোষণার ওজন কতটা, তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বিনষ্ট করছে কারা?

 পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বিনষ্ট করছে কারা?

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্থিরতার মূল উৎস কারা? বাস্তবতা হলো, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি সবচেয়ে বেশি বিনষ্ট করছে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ক্ষমতার লড়াই। বিশেষ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস/পিসিজেএসএস)-এর বিভিন্ন গ্রুপের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।

১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির পর জেএসএস-এর মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউপিডিএফ গঠিত হয়। তারপর থেকে এই দুই গোষ্ঠী এবং তাদের অভ্যন্তরীণ উপদলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অব্যাহত সংঘাতে জড়িয়ে আছে। এলাকা দখল, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রশস্ত্রের দাপট বজায় রাখার প্রতিযোগিতাই তাদের মূল এজেন্ডা। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, ১৯৯৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জেএসএস-এর হামলায় শতাধিক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকেও জেএসএস কর্মীদের ওপর নিয়মিত হামলার অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাঘাইছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালা, সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো সংঘর্ষে একাধিক নিহত ও আহতের খবর পাওয়া গেছে। অস্ত্র চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়েছে। এসব সংঘাতে সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ রাতে ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছে।

এই গোষ্ঠীগুলো নিজেদের ‘জনগণের অধিকারের প্রতিনিধি’ বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তবে তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের আধিপত্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। একদিকে তারা সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচার চালায়, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ চালিয়ে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি রাখে। ফলে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি জনগণ দ্বিমুখী চাপে পড়েছে—একদিকে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জুলুম, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উন্নয়নের অভাব।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমে এই আন্তঃগোষ্ঠী সংঘাত ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা জনগণের নামে রাজনীতি করে কিন্তু জনগণকেই জিম্মি করে রাখে, তাদের আসল চেহারা এখন আর গোপন নেই। শান্তি চুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সশস্ত্র রাজনীতি ছেড়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথে আসতে হবে। নইলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ আর কতদিন এই রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার হয়ে থাকবে?

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বিনষ্ট করছে মূলত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের স্বার্থপরতা ও সংঘাত। জনগণের স্বার্থ সবার উপরে রাখলেই কেবল স্থায়ী শান্তি সম্ভব।

সাজেকে অনিচ্ছাকৃত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইউপিডিএফ-এর নোংরা রাজনীতি

 সাজেকে অনিচ্ছাকৃত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইউপিডিএফ-এর নোংরা রাজনীতি

গতত ১৮ জুলাই ২০২৬ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমা (৩০) সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে বিজিবির একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অটোরিকশা চালক হরেন্দ্র ত্রিপুরাও গুরুতর আহত হন।

এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও দুঃখজনক একটি সড়ক দুর্ঘটনা। পাহাড়ি সড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। ঘটনার পর বিজিবি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নিহত শিক্ষিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। তারা পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করে, সহানুভূতি জানায় এবং ক্ষতিপূরণসহ মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদও বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।

তবে এই সাধারণ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ, প্রসীত গ্রুপ) যেভাবে রাজনীতি শুরু করে, তা অত্যন্ত নোংরা ও নিন্দনীয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুসারে গর্ভবতী নারী মারা গেলে পেটের সন্তানকে আলাদা করে দাহ করা হয়। এই শাস্ত্রীয় প্রথা মেনেই সুমন্তি চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইউপিডিএফ সমর্থকরা মৃত শিশুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। মাসালং এলাকার ইউপিডিএফের এক নেতা বাবুধন চাকমা এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং কর্মী-সমর্থকরা তা ভাইরাল করে। উদ্দেশ্য একটাই—বিজিবির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং সাধারণ পাহাড়িদের মধ্যে সহানুভূতি আদায় করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।

শুধু তাই নয়, বিজিবির ক্ষতিপূরণ ও মানবিক উদ্যোগের সংবাদ প্রকাশ করায় কিছু পত্রিকা পোড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইউপিডিএফের কাছে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বা ধর্মীয় অনুভূতি কোনো গুরুত্ব রাখে না। তারা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ করাই এ ধরনের গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। সাধারণ দুর্ঘটনাকে ‘নিপীড়ন’ বলে চালিয়ে দেওয়া, ধর্মীয় আচারকে বিকৃত করে প্রচার চালানো এবং ক্ষতিপূরণের খবর দমন করার চেষ্টা—এগুলো তাদের চরিত্রেরই পরিচায়ক। জনগণের জীবন নিয়ে এমন নোংরা রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পার্বত্যবাসী এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে—কে প্রকৃত সেবা করে, আর কে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা লুটে। একটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাকে এভাবে ব্যবহার করা মানে মৃত শিক্ষিকা ও তার অনাগত সন্তানের স্মৃতিকে অপমান করা। এ ধরনের রাজনীতির অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এক ম্রো পাড়ার ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলকে যেভাবে আবার চালু করা হচ্ছে —

 পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এক ম্রো পাড়ার ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলকে যেভাবে আবার চালু করা হচ্ছে —

গতপরশু বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পূর্বপরিচিত একজন শিক্ষকের ফোনকল পেলাম। ভীষণ হতাশার সুরে জানালেন ওই পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের এক দুর্গম এলাকা সাক্লান পাড়াতে একটা স্কুল অতিবর্ষণে ভেঙে পুরোপুরি মাটিতে মিশে গিয়েছে। বান্দরবানে অতিবৃষ্টি 

আর বন্যায় এবার যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অতীতে বেশ কয়েকবছর ধরে বান্দরবানের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভলান্টারি কাজ করতাম। ফেইসবুকে আমাকে যারা লম্বা সময় ধরে ফলো করেন, তারা হয়ত অতীতের ওইসব কাজকর্মের সাথে টুকটাক পরিচিত ছিলেন। পাহাড় আমার কাছে বিশাল মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে থাকা অনুভূতির নাম। সেইসব কাজের সূত্রে বেশকয়েকজন চেনাজানা মানুষ ছিলেন। তাদের ভেতরেরই দুইজন শিক্ষক ব্যাপারটা আমার নজরে আনলেন।

ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন এমনিতেই সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর একটি। খুবই দুর্গম এলাকায় বসতি তাদের। শিক্ষা ব্যাপারটাই তাদের কাছে যেন ভিন্নলোকের কোন এক বিলাসিতা! 

পাহাড়ের ঢালে বাঁশ দিয়ে লোকাল অবকাঠামো দাঁড় করিয়ে ওই পাড়াতে চলে এই স্কুল। ছাত্র ৩৫ জন, শিক্ষক ২জন। বেসরকারি স্কুল যেহেতু, তাই একবার এই যাত্রা থমকে গেলে আবার যে চালু হবে সেই ব্যাপারটাও থাকে তীব্র অনিশ্চয়তায়।

আর এই স্কুলটা বন্ধ হলে, হয়তো ওই পাহাড়ি পাড়ার অধিকাংশ বাচ্চার জন্যই শিক্ষার দুয়ার সারাজীবনের জন্য বন্ধও হয়ে যেতে পারে!

খবর পাওয়ার দিনই উপজেলা সদর থেকে লোক পাঠিয়ে ওই জায়গার ডিটেইলস খোঁজ খবর নিলাম। উপজেলা সদর থেকে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই জটিল। ঝিরিপথ পাড়ি দিয়ে লম্বা সময় ট্রেকিং করে যেতে হয় সেখানে।

এরপর বান্দরবানের ডিসির সাথে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনাটা ব্রিফ করলাম। ডিসি সাহেবকে কিছু ইন্সট্রাকশন দেওয়ার পর উনি ভীষণ তৎপরতার সাথে কাজ এগিয়ে নিলেন। ডিসি এরপর সংশ্লিষ্ট ইউএনও-কে সাথে নিয়ে চটজলদি কাজে নেমে পড়েছেন। গতকাল রাতেই ইউএনও সাহেব লোকাল কিছু মানুষের সাথে বসে কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। 

সাক্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কার্যক্রম আজকে থেকে শুরু করা হয়েছে। যেই জায়গাতে স্কুলঘরটা ছিলো, সেটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটু দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কিছুটা ভালো জায়গায়। পাশে যাতে খেলাধুলার জায়গা থাকে, সেটাও বিবেচনায় রয়েছে। ট্রাইবাল মোটিফকে বজায় রেখে নতুন ভবনের কাজ আজ শুরু হয়েছে। বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, বোর্ড থেকে শুরু করে শিক্ষকদের ফ্যাসিলিটি যোগাতে সরকারি উদ্যোগে খরচ দেওয়া হচ্ছে। 

বান্দরবান জেলা প্রশাসন হতে টিআর বরাদ্দের ৮ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে কাজ শুরু হবে। তাছাড়া অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসাবে ওই জেলায় ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকার বেচে যাওয়া টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ওই স্কুল নির্মাণে বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১০ বান্ডেল কালার ৩৪মিমি টিন আজকে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আশা করা যাচ্ছে অচিরেই দৃষ্টিনন্দন নতুন স্কুলটি প্রাণ ফিরে পাবে এবং অতি অবশ্যই অতীতের চেয়ে ভালো স্কুলঘর হবে। সবার জন্য পড়াশোনার ন্যূনতম উপকরণ নিশ্চিত করা হবে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক এবং আলীকদম উপজেলার ইউএনও এর কর্মতৎপরতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর যেই মানুষগুলো কোনকিছু প্রাপ্তির আশা না করে কেবল নিজেদের এলাকাটাকে ভালোবেসে ভলান্টিয়ার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই উদ্যোগে, তাদের প্রতিও রইলো সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। 

শুধু শহরাঞ্চল বা সুবিধাসম্পন্ন এলাকাগুলোতে কাজ করাটাই আমাদের দায়িত্ব না, বরং দুর্গম এসব এলাকায় যাদের কথা সচরাচর কেউ ভাবতে চায় না, তাদের কথা ভাবনায় রাখাটাও আমাদের সরকারের একটা ভিশন।সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। বাংলাদেশটা সবার হোক— সেটাই প্রত্যাশা।

-Saiyed Abdullah

প্রতারক হরিদাস কোনো ধর্ম বা গোত্রের নয়, একজন প্রতারক

 প্রতারক হরিদাস কোনো ধর্ম বা গোত্রের নয়, একজন প্রতারক

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলাম — এই নামটি এখন বাংলাদেশে প্রতারণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি কোনো ধর্মের অনুসারী নন, কোনো গোত্র বা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন। তিনি শুধু একজন পেশাদার প্রতারক। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থের পাহাড় গড়েছেন, আর সেই অর্থ দিয়ে বিশাল মন্দির-মূর্তির প্রকল্প চালিয়েছেন।

একসময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাধারণ এসি মেকানিক ও সবজি বিক্রেতা ছিলেন হরিদাস। শিক্ষা মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি। ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম নেন, মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। তারপরই শুরু হয় প্রতারণার সাম্রাজ্য। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার সেজে, ভুয়া নথি ও এডিটেড ছবি ব্যবহার করে চাকরি, টেন্ডার ও বদলির নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ২০২২ সালে র‍্যাব-এনএসআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন। জামিনে বেরিয়ে আবার ধর্মীয় লেবাসে ফিরে পলাশবাড়ীতে ২২-৪০ কোটি টাকার মন্দির প্রকল্প শুরু করেন। ৮১ ফুট রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা হয়, কিন্তু অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্কে প্রকল্প স্থগিত হয়।

সম্প্রতি সিআইডির মানি লন্ডারিং মামলায় আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। তার নামে ৫টি ব্যাংক ও ৪টি এমএফএস অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হুন্ডি ও মুদ্রা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে তিনি নিজেকে কৃষক ও মন্দির পরিচালক বলে দাবি করেন, টাকা ভক্তদের অনুদান বলে জানান। কিন্তু তদন্তকারীরা বলছেন, বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল অর্থের কোনো মিল নেই। জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

হরিদাসের কৌশল ছিল সহজ — ধর্মের নামে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানো। একদিন হিন্দু সাধু, অন্যদিন মুসলিম পরিচয়। কোনো ধর্মই তার নয়, শুধু প্রতারণার হাতিয়ার। সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলেন, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — প্রতারণার টাকায় গড়া মন্দির কীভাবে পবিত্র হতে পারে? ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করা কোনো ধর্মাবলম্বীর কাজ নয়।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, প্রতারকরা ধর্মের লেবাস পরে যেকোনো সময় আসতে পারে। সতর্ক থাকুন, তদন্তের দাবি জানান। ধর্ম রক্ষা করতে হলে প্রথমে প্রতারণা থেকে মুক্ত করতে হবে। হরিদাস কোনো ধর্ম বা গোত্রের নয় — তিনি শুধু একজন প্রতারক। সুষ্ঠু বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক।

জুলাই অভ্যুত্থানের স্বতঃস্ফূর্ততা: জনগণের অংশগ্রহণই ছিল আসল শক্তি

 জুলাই অভ্যুত্থানের স্বতঃস্ফূর্ততা: জনগণের অংশগ্রহণই ছিল আসল শক্তি

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর কথা প্রাধান্য পায়। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই অভ্যুত্থানের অন্যতম গাঠনিক বৈশিষ্ট্য ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন কীভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়—সেই প্রশ্নই তার আলোচনার কেন্দ্রে।

রাজনৈতিক সাহিত্যে ‘স্বতঃস্ফূর্ততা’ নতুন কোনো ধারণা নয়। লেনিন পার্টির কেন্দ্রীভূত নেতৃত্বের ওপর জোর দিলেও রোজা লুক্সেমবার্গ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অরাজপন্থীরা একে বিপ্লবের অপরিহার্য শর্ত বলে মনে করেন। তবে বাংলাদেশে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা কম এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। নব্বই দশকের পর জাপাতিস্তা আন্দোলন, আরব বসন্ত বা অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের মতো ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কাঠামো ছাড়াই বড় আকারের আন্দোলন সম্ভব।

জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততাকে তিনভাবে বোঝা যায়। প্রথমত, এটি প্রস্তুতিহীন বা আকস্মিক নয়। অনেক আন্দোলনকারী ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই, নো-ভ্যাট আন্দোলন, শাপলা চত্বর বা মোদি-বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। তাদের অংশগ্রহণ ছিল পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক-জালের ফল।

দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল অনুভূমিক। কেন্দ্রীয় কোনো কঠোর কাঠামো ছিল না। স্থানীয় পর্যায়েই কর্মসূচি নির্ধারিত হতো। অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়েও প্রান্তিক এলাকার অনেক আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে খুব কমই জানতেন। গ্রাফিতিতে নেতার ছবির পরিবর্তে শহীদ স্মরণ ও কর্মসূচি প্রাধান্য পেয়েছিল। অভ্যুত্থানের পরবর্তী কয়েক দিনের ‘রাষ্ট্রহীন’ অবস্থায় সহিংসতা মোকাবিলাও স্থানীয়ভাবেই সংগঠিত হয়েছিল।

তৃতীয়ত, সক্রিয় আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি নীরব দর্শকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। দোকানদার বিনামূল্যে পানি দিয়েছেন, রিকশাচালক বিনা ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে গেছেন, বাড়ির ভেতর থেকে পানির বোতল বা টুথপেস্ট ছুড়ে দেওয়া হয়েছে কাঁদানে গ্যাসের প্রভাব কমাতে। এই পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলন বৈপ্লবিক চেহারা পেত না।

সাম্প্রতিক বিশ্বের অনেক আন্দোলনেই একই ধরনের অনুভূমিক চরিত্র দেখা যায়। এর পেছনে কাজ করে রাজনৈতিক দলের প্রতি অনাস্থা এবং দমনমূলক শাসনে বড় সংগঠন গড়ে তোলার অসম্ভবতা।

নেতৃত্বের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু কেবল নেতা ও সংগঠনের গল্প দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান বোঝা যায় না। বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় প্রায়শই নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকেই কেন্দ্রে রাখা হয়। স্বতঃস্ফূর্ততার স্বীকৃতি না দিলে অভ্যুত্থানের আসল চরিত্র অধরা থেকে যায়। একই সঙ্গে এই স্বতঃস্ফূর্ততাই পরবর্তী সময়ে অর্জন ধরে রাখা ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনাকে কঠিন করে তোলে—এটি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকেও স্পষ্ট।

জুলাই অভ্যুত্থানকে পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে হলে সক্রিয় আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের ইতিহাসও তুলে আনতে হবে। সেই ‘নীরব দর্শকদের’ সক্রিয়তা এখনো অনেকটাই অনালোচিত রয়ে গেছে।

ধরা খাইলেই দ্বিতীয় স্ত্রী, জামায়াত-হেফাজতের একই নীতি

 ধরা খাইলেই দ্বিতীয় স্ত্রী, জামায়াত-হেফাজতের একই নীতি

সম্প্রতি দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের কিছু নেতার কাছে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শুধু জনসমক্ষে বক্তৃতার বিষয়। ধরা খাইলেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র গল্প।

প্রথমে কথা বলতে হয় মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে। হেফাজতে ইসলামের এই নেতা একসময় নারীদের পর্দা, নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের কঠোর বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু রেসিডেন্সিয়াল হোটেলে অবৈধ সম্পর্কের অডিও-ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর তিনিও ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র অজুহাত দাঁড় করান। কিন্তু তার এই দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা প্রথম স্ত্রী জানতেন না, তাই গোপনে হোটেলে যাওয়া! ধর্মের নামে যে কঠোর বক্তৃতা দিতেন, নারীর ক্ষেত্রে সেই নীতি একেবারে বদলে যায়।

এবারের ঘটনা আরও চাঞ্চল্যকর। সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক অল্প বয়স্কা মেয়ের অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তিনিও ওই নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেছেন বলে অভিযোগ। জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে এআই জেনারেটেড বলে অস্বীকার করা হলেও ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে আসল বলে নিশ্চিত করেছে। একজন সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে এ ধরনের ঘটনা পুরো দলের ইমেজকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

একই নীতি, দুই নেতা মামুনুল হক হোক বা গাজী নজরুল ইসলাম — ধরা না খাওয়া পর্যন্ত ধর্মের কঠোর পাহারাদার, আর ধরা খেলেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র সুর। জামায়াত-হেফাজতের এই অংশটি নারীদের অধিকার, পর্দা ও নৈতিকতার যে বক্তৃতা দেয়, নিজেদের জীবনে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। এটি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, যে দল ও সংগঠন সমাজকে ইসলামী মূল্যবোধ শেখাতে চায়, তাদের নেতাদের এমন আচরণ পুরো আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে।

জনগণ এখন প্রশ্ন তুলছে — যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন, তাদের নৈতিক অবস্থান আসলে কতটুকু শক্ত? ধরা খাইলেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ — এই নীতি কি জামায়াত-হেফাজতের অঘোষিত নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে?

সমাজে নৈতিকতার যে মানদণ্ড তুলে ধরা হয়, তা নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার দায়িত্বও তাদেরই। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো দল ও ধর্মীয় রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

© all rights reserved
made with by templateszoo