সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

 সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

১ অক্টোবর সেনাসদরে যা হয়েছে, সেটা সামরিক প্রটোকলের নিয়মিত অনুষ্ঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে নিয়মিত দরবারে পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার কথা বলেছেন এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল বিবৃতিতে একে ‘নিয়মিত দরবার’ বলা হয়েছে। জরুরি বৈঠক, নতুন ম্যান্ডেট বা সর্বাত্মক মাঠ অভিযানের কোনো ইঙ্গিত সেখানে নেই।

একই দিন তিনি রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই জোনের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। দূরবর্তী পার্বত্য ক্যাম্পে কমান্ডারের সফর সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কমান্ড অনুশীলন। একে ‘সফর বাতিল করে জরুরি দরবার’ বলার কোনো ভিত্তি নেই। অক্টোবরের শুরুতে কোনো পূর্বঘোষিত সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।

সেনা দরবার সেনাপ্রধানের নিয়মিত যোগাযোগমাধ্যম। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার করেছেন—সেটাও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল, এটা কোনো সংকটের সংকেত নয়। শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের কথা বলা মানে নতুন অভিযানের ঘোষণা নয়।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন আলাদা। আইনশৃঙ্খলা কোনো সেনাবাহিনীর বিষয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই দিন স্পষ্ট করেছেন, যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি; পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারের সমন্বিত কাজ চলমান রুটিন প্রক্রিয়া। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্বে আছে—নির্বাচনী নিরাপত্তা, পার্বত্য এলাকা, সহায়ক শক্তি হিসেবে। তার মানে এই নয় যে একটি নিয়মিত দরবারকে কেন্দ্র করে বাহিনী ‘পূর্ণ শক্তিতে’ নতুন করে নামছে।

কাজী রুনা ও নবনীতার ইউটিউব বিশ্লেষণে রুটিন অনুষ্ঠানকে অরাজকতা, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জুড়ে ‘সময়ের দাবি’ বানানো হয়েছে। অফিসিয়াল ভাষ্য, মূলধারার প্রতিবেদন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য—তিনটিই এই ফ্রেমকে সমর্থন করে না। সেনাবাহিনী কী করবে, তা সেনাসদরের বিজ্ঞপ্তিতে থাকে; ইউটিউব ভিডিওর অনুমানে নয়।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সবুজ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারী জানান, ওই সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের সময় আখতারুজ্জামান নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য বিমানবন্দরের CCTV ফুটেজ, প্রবেশ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত রেকর্ড, ফ্লাইট রেকর্ডসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংরক্ষণ ও সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নিরাপত্তাকর্মীদের বক্তব্য গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বিষয়। অভিযোগকারী পক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

পরে নথিতে সংযুক্ত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ঘটনার সময়, স্থান, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের পরিচয়সহ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। সেখানে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

একজন জনপরিচিত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঘিরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ ওঠা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ম মেনে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে শালীন ও সহযোগিতামূলক আচরণ করার প্রত্যাশা থাকে।

এছাড়াও, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এ  নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে এ হুমকি দেন তিনি।

এদিন সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনাটি নিয়ে মেজর আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি এজহার নথিভুক্ত করা করা হয়েছে। 

কেপিআই এলাকায় ওয়ারেন্ট অফিসারকে মারধরের অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা

কেপিআই এলাকায় ওয়ারেন্ট অফিসারকে মারধরের অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা ১ অক্টোবর ২০২৬। সকাল নয়টা পেরিয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাউঞ্জের বেল্টে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। দোহা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ নির্ধারিত সময় ৯টা ২ মিনিটের বদলে ৯টা ২৫ মিনিটে নামে। বিমান দাঁড়ায় রিমোট বে বি-১৪/বি-১৫-এ। ব্যাগ টার্মিনালে আসতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এতে ব্যাগের লাইন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ পায় এবং সেটা স্বাভাবিক।

এই সময়, অনুমান ১০টা ৪০ মিনিটে, বেল্ট এলাকায় ঢোকেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সঙ্গে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী। এসেই রাগারাগি শুরু করেন, ব্যাগ কেন দেরিতে নামছে সে কথা বলতে পারতেন। কারণ জানতে চাইতে পারতেন, কিন্তু তা না করে এসেই উচ্চস্বরে চিতকার করা শুরু করেন “আমি পিটিয়ে সাইজ করে দেব।” “Get out from here।” “তাকে ধরে কইরা দে।” “কাজ জানেন না, তদবির করেন, ঘুষ দিয়ে চাকরিতে ঢুকেন।” “পেটাতে এ আসবেন।” “মাইর খাইতে চান।” ইত্যাদি কথা বার্তা বলতে থাকেন। 

কথাগুলো অভিযোগ নয়, হুমকি। একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায়, যেখানে দায়িত্বরত মানুষকে কাজ করতে হয়, সেখানে গলা চড়িয়ে মারের কথা বলা মানে শৃঙ্খলা ভাঙা। মেজর আখতারুজ্জামান এর সঙ্গের প্রটোকল সহকারীরা ফোন দিয়ে ভিডিও ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন। ঘটনাকে প্রমাণ করার চেষ্টা নয়। চাপ তৈরির চেষ্টা। এতে নিরাপত্তা আরও নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, বিডি/৪৬৫৬৩৫৫, পিতা মো. জালাল উদ্দিন, তখন নিষেধ করেন। কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও বন্ধ করতে বলেন। এটা তার কাজ। এজাহারে বলা হয়েছে,। জবাবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে এগিয়ে যান। অকথ্য ভাষায় গালি দেন। তারপর একতরফা মারধর করেন। সিসিটিভির বাইরে এই ঘটনা।  প্রমাণ তাই ভিকটিমের শরীর ও যারা দেখেছেন তাদের সাক্ষ্য।

মারধর থামলেও আচরণ থামে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধি এলে তার সঙ্গেও অশোভন ও মারমুখী ব্যবহার। তারপর সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল। ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলা। ক্ষতি করা। যে পানির জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিল, সেই বোতলই তার হাতে অস্ত্র হয়ে ওঠে।

সাড়ে এগারোটার মধ্যে বেল্ট এলাকার ছবিটা এজাহারে এই। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর, সরকারি ইউনিফর্মধারী এক ওয়ারেন্ট অফিসারকে গালি দিয়ে হাত তুলছেন। প্রটোকলের মানুষ ভিডিও করছে। যাত্রীর জিনিস মাটিতে পড়ছে। দায়িত্ব পালন থেমে যাওয়ার উপক্রম।

অভিযোগ লেখেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সাজিব, পিতা মো. মহসিন আলী। সাক্ষী রাখেন ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (বিডি/৮০০৩০৩৮) ও ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ইয়াসিন (বিডি/৮৮৫১৪৫)। ২ অক্টোবর ভোর ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর থানায় এজাহার ওঠে। মামলা নম্বর ৬, জিডি ৩৫২। ধারা ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪, ৫০৬। সরকারি কাজে বাধা, দায়িত্বরত ব্যক্তিকে আঘাত, অশ্লীল গালি, ভয়ভীতি। রেকর্ড করেন ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান তালুকদার। তদন্তে সাব-ইন্সপেক্টর মাজেদুল ইসলাম।

ব্যাগ দেরিতে আসা বিমানবন্দরের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সেই দুর্বলতার আড়ালে একজন মানুষের এই আচরণ মেনে নেয়া যায় না। যে এলাকায় ক্যামেরা নিষেধ, সেখানে ভিডিও করেন মেজর আখতারুজ্জামান এর সহকারীরা। যারা নিষেধ করছেন তাদেরকেই মারধোরের চেষ্টা করেন। দুর্ব্যবহার করেন গালি দেন। এজাহার এই আচরণকে অপরাধ বলে দাখিল করেছে।  

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমে তাদের সঙ্গে আনা জমজমের পানি সময়মতো পাচ্ছিলেন না।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিমান জানতে পেরেছ, কন্টেইনার অফলোডিং এবং পরিচালনগত গাফিলতির কারণেই ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হয়। আর এ কারণেই মেজর আখতারুজ্জামান বাকবিতণ্ডায় ও মারমুখী হয়ে ওঠেন। 

রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়

 


রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় মানবিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং তাদের বড় অংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও অংশীদাররা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, সংকটের টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। তাই মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়? 

ডিজিটাল যুগে একটি ঘটনা শুধু ঘটলেই শেষ হয় না। ঘটনার পরপরই শুরু হয় আরেকটি লড়াই, তথ্যের লড়াই। কে আগে মানুষের সামনে ঘটনার ব্যাখ্যা হাজির করবে, কোন বয়ান সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কোন তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করবে, অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন। আর এক্ষেত্রে অনেকটাই ‘তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার’। 

কোনো ঘটনা ঘটার পর অপতথ্য ছড়ানোর গতি অনেক সময় সরকারি তথ্য প্রকাশের গতির চেয়ে বেশি। ফলে তথ্যের শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক বয়ান। 

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ। সামাজিক মাধ্যমে তাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে অপ্রতিমের ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত দাবিটি অসত্য প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে হত্যার পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। 

এখানে মূল সমস্যা শুধু গুজব নয়, গুজব ছড়ানোর সময়ের ব্যবধান। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা তথ্য না আসে, সামাজিক মাধ্যম সেই শূন্যস্থান নিজের মতো করে পূরণ করে। এরপর সত্য তথ্য প্রকাশ করলেও তা অনেক সময় প্রথম তৈরি হওয়া বয়ানের প্রভাব পুরোপুরি কাটাতে পারে না।

প্রতিবেদনে যে তথ্য-প্রবাহের কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বয়ান প্রথমে তৈরি হয়, এরপর বড় পেজ, ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সার সেটিকে ছড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সেটিকে নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে। তারপর তৈরি হয় রিলস, মিম ও ফটোকার্ড। শেষ পর্যায়ে মূলধারার আলোচনা সেটিকে আরও দৃশ্যমান করে। এভাবেই একটি যাচাইহীন দাবিও মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মতো মনে হতে পারে। 

তবে সরকারের পালটা ব্যবস্থা নিয়েও একটি ভারসাম্য জরুরি। অপতথ্য মোকাবিলার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত দ্রুত, নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর তথ্য দেওয়া, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পালটা প্রচারণা চালানো নয়।

এই জায়গায় একটি স্বাধীন ও পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সরকারি যোগাযোগকে একই ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রকৃত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত তথ্যযুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র প্রচারণা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। রাষ্ট্র যদি দ্রুত সত্য তথ্য দেয়, ভুল স্বীকার করে, প্রমাণ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আপডেট দেয়, তাহলে অপতথ্যের জন্য তৈরি হওয়া শূন্যস্থান অনেকটাই সংকুচিত করা সম্ভব। আর সেটিই হতে পারে ডিজিটাল যুগে সরকারের তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

“বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যা? ১৫ বছরের অন্ধকার অধ্যায়”

 “বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যা? ১৫ বছরের অন্ধকার অধ্যায়”

২০০৮ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪। 

বাংলাদেশের রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগ। 

এই সময়ের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিচারবহির্ভূত হত্যা, যাকে অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’। 

বিএনপির অভিযোগ, এই সময়ে সারাদেশে ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ASK-এর হিসাব বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

আর পুলিশের Special Branch-এর নথিতেও ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এক হাজারের বেশি কথিত ক্রসফায়ার ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

তাহলে প্রশ্ন,

এসব কি সত্যিই বন্দুকযুদ্ধ ছিল?

নাকি কিছু মানুষকে আগে আটক করে পরে হত্যা করা হয়েছিল?

বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করেছে, তাদের স্বজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে খবর এসেছে, তিনি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

এই অভিযোগ শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই ওঠেনি।

Human Rights Watch এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ততকালীন RAB ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র RAB-এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এরপর আসে ২০১৮ সালের মাদকবিরোধী অভিযান।

মাদক নির্মূলের নামে দেশজুড়ে অভিযান চলাকালে বহু মানুষ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুও সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। রাষ্ট্রীয় বর্ণনায় সেটি ছিল বন্দুকযুদ্ধ। কিন্তু তার পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আর তারপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। 

ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলন দমনে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

এই সময়ের হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হয়।

শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। বর্তমানে তিনি ভারতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। 

কিন্তু এই সংখ্যাটা ২ হাজার ২৭৬ হোক বা ১ হাজার ৯২৬ অথবা অন্য কোনো সংখ্যা।

সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন একজন করে মানুষ।

একটি পরিবার।

একটি জীবন।

একটি অসমাপ্ত গল্প।

তাই প্রশ্নটি শুধু কতজন মারা গেছেন, তা নয়।

প্রশ্ন হলো, কার নির্দেশে?

কোন বাহিনীর হাতে?

কোন পরিস্থিতিতে?

আর কেন তাদের মৃত্যুকে ‘ক্রসফায়ার’ বলা হয়েছিল?

প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, নথি যাচাই এবং আদালতের মাধ্যমে দায় নির্ধারণই পারে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে। 

কারণ সরকারে থাকা অবস্থায় এসব ঘটনার নির্দেশদাতা দায় এড়াতে পারে না। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র, আইন এবং মানবাধিকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।

সত্য প্রকাশের পরীক্ষা। ন্যায়বিচারের পরীক্ষা।

এবং সবচেয়ে বড় কথা,

ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকারই রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে নাগরিকের জীবন কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তার পরীক্ষা।

ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ বেছে নিয়েছেন সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী: হাসিনা, খ্রিস্টান রাষ্ট্র ও মার্কিন ইস্যু

ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ বেছে নিয়েছেন সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী: হাসিনা, খ্রিস্টান রাষ্ট্র ও মার্কিন ইস্যু

ব্লিটজ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী তার ইউটিউব চ্যানেলে ”শেখ হাসিনার বিষয়ে আমেরিকার সিদ্ধান্ত আসছে!” শীর্ষক একটি লাইভ শো করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন-যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান না নেওয়া মানে ওয়াশিংটন গোপনে হাসিনার সঙ্গে দরকষাকষি করছে, বিএনপি থেকে সরে যাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা দিয়ে হাসিনাকে ফেরাবে। তিনি একে আমেরিকার ‘হাড়ির খবর’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

তার এই এই ব্যাখ্যা আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নাকি তার মনগড়া? 

আমেরিকা যা বলেছে, যা বলেনি- 

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি বড় উত্তেজনার কারণ। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান খুঁজুক। হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা তারা নির্দিষ্ট করে বলেনি। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলা না-তোলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘খুবই সুস্থ ও শক্তিশালী’ এবং তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাবে।

এটা গোপন সংকেত নয়। এটা কূটনৈতিক নন-ইন্টারফারেন্সের ভাষা। ওয়াশিংটন বলছে না—হাসিনাকে ফেরত দাও, ফাঁসি স্থগিত করো, নিষেধাজ্ঞা তোলো। বলছে না—হাসিনাকে গ্রেপ্তার করো। বলছে শুধু, এটা ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আমরা নির্দেশ দিচ্ছি না।

শোয়েব চৌধুরী এই বক্তব্যটাকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘দরকষাকষি’ ও ‘নতুন পরিকল্পনা’ বানিয়েছেন। কিন্তু একই ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে তারা বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। যে বাক্য তিনি বাদ দিয়েছেন, সেটাই মূল বার্তা।

দ্বিতীয়ত, তারেক রহমানের দিল্লি সফর: আমন্ত্রণ আছে, ‘না যাওয়ার নাটক’ নয়- 

শোয়েব চৌধুরীর মতে, ভারত এখন তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানাবে কি না সন্দেহ। বাস্তবতা উল্টো। ভারত ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দিয়েছে। দুই পক্ষ নভেম্বরের শেষার্ধে তারিখ খুঁজছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার পরও আলোচনা থেমে যায়নি। 

দিল্লি সফর হলেই হাসিনা ইস্যুতে ‘সমঝোতা হয়ে যাবে’—এমন দাবিও অনুমান। সফরের এজেন্ডা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাণিজ্য, পানি চুক্তি, সীমান্ত—এসবই আলোচ্য। হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত যৌথ ঘোষণা আসবে—এমন কোনো সরকারি ইঙ্গিত নেই। তবুও সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী মনগড়া উক্তি দিয়েই যাচ্ছেন। 

যেসব দাবি বা গুজব তিনি বারবার বলছেন: 

তার মতে, সেন্ট মার্টিন ও মহেশখালীতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি: এই দাবি বছরের পর বছর ঘুরেছে। যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার অস্বীকার করেছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বলেছেন, তার সময়কালে এমন কোনো প্রস্তাব তিনি শোনেননি, দ্বীপটি ঘাঁটির জন্য ভৌগোলিকভাবেও অযৌক্তিক। এএফপি ফ্যাক্টচেক ও বাংলাদেশ সরকারও দ্বীপ হস্তান্তরের গুজব মিথ্যা বলেছে।

মি চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’: পূর্ব তিমুরের সঙ্গে তুলনা করে এটি উপস্থাপন করেছেন। কোনো মার্কিন নীতিপত্র, কংগ্রেস শুনানি বা প্রতিরক্ষা নথিতে এমন পরিকল্পনার প্রমাণ নেই। ইউনূসের পূর্ব তিমুর সফরকে সেই চক্রান্তের প্রমাণ বলা কূটনৈতিক সৌজন্য সফরকে ষড়যন্ত্রে রূপান্তর।

ভলকার টুর্ক ও সেনাবাহিনী- 

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ২০২৪-এর সহিংসতায় সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ দেওয়ার সতর্কতার কথা পরে বলেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সরাসরি এমন বার্তা পায়নি। একে ইউনূসকে ফেরানোর চক্রান্ত বলাটা টুর্কের প্রকাশ্য মানবাধিকার অবস্থানকে রাজনৈতিক থ্রিলারে বদলে দেয়। 

শোয়েব চৌধুরী কি ওয়াশিংটনের ভেতরের খবর আদৌ জানেন?

জানেন না। তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ের পাবলিক সারসংক্ষেপ নিয়ে নিজস্ব কাহিনি বুনেছেন। তার দীর্ঘ রেকর্ড আছে গুজব ছড়ানোর জন্য। ফ্যাক্টচেকার ও আদালতের নথিতে প্রতারণা, ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের অভিযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ফ্যাক্টচেক ইউনিটও তার লেখা ভিত্তিহীন বলেছে। এমন ব্যক্তির ‘আমেরিকা এখন যা ভাবছে’ বলাটা সূত্র নয়, অনুমান।

যুক্তরাষ্ট্র যদি হাসিনাকে ফেরাতে চাইত, তারা ‘কোনো অবস্থান নেই’ বলে চুপ থাকত না। তারা দ্বিপক্ষীয় চাপ, নিষেধাজ্ঞা বা প্রকাশ্য শর্ত দিত। এখন তারা যা করছে তা হলো—নির্বাচিত সরকারকে স্বীকৃতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাম না নেওয়া, হাসিনা ইস্যু ঢাকা-দিল্লির ঘরে রাখা।

নাটকীয়তা চাইলে সব নীরবতাকে চক্রান্ত বলা যায়। কূটনীতি পড়তে চাইলে ব্রিফিংয়ের পুরো বাক্য পড়তে হয়, শুধু যে অংশটা থ্রিলার বানায় সেটা নয়। সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী একটু বেশি চালাক হয়ে গেছেন, ইউটিউব ভিউজের জন্য হাসিনা, আইএস, আল কায়েদা ও মার্কিন ইস্যু বেছে নিয়েছেন। ভিউ বাণিজ্যের ভিন্ন নিশ! 

Indian Gangster Goldy Brar Added to FBI’s Top Ten Most Wanted List; $1 Million Reward for Information Leading to His Arrest


 Indian Gangster Goldy Brar Added to FBI’s Top Ten Most Wanted List; $1 Million Reward for Information Leading to His Arrest

The United States Federal Bureau of Investigation (FBI) has added Satinderjit Singh, alias Goldy Brar, from Punjab, to its notorious Ten Most Wanted Fugitives list. The FBI has announced a reward of up to $1 million for information leading to his arrest.

On September 28, 2026, the FBI’s Los Angeles Field Office announced the designation. He is the 543rd member of the list.

The FBI’s official poster lists his place of birth as Punjab, India, and his year of birth as 1994. His aliases include Goldy Brar and Satinderjit Singh Brar. He is approximately 5 feet 9 inches tall and weighs 220 pounds. He speaks Punjabi and English. The agency says he has links to California, Canada, India, and Mexico.

The FBI alleges that he is the suspected leader of the North American branch of the Lawrence Bishnoi Organized Crime Group. The group is accused of involvement in violent activities across Southern California, the United States, and Canada. These include the killing of political and religious figures, shootings, murders, kidnappings, extortion, assaults, and drug and weapons trafficking.

In July 2026, a federal court in the Central District of California in Los Angeles issued a warrant for his arrest. He faces three charges:

  • Racketeer Influenced and Corrupt Organizations (RICO) conspiracy

  • Conspiracy to interfere with commerce through extortion

  • Conspiracy to distribute and possess controlled substances

U.S. prosecutors allege that Bishnoi and Goldy Brar ordered the killing of Hardeep Singh Nijjar outside the Guru Nanak Sikh Gurdwara in Surrey, British Columbia, Canada, on June 18, 2023. Nijjar was shot and killed by two gunmen as he was leaving the parking lot.

Lawrence Bishnoi himself is from Fazilka district in Punjab. He is currently imprisoned in India. The FBI says that he operates his network from prison and that Goldy Brar served as his principal lieutenant in North America.

The investigation is known as Operation Hardball. In July, the United States indicted 37 individuals linked to three India-based international criminal organizations. Five of them remain fugitives. Goldy Brar is one of them.

Patrick Grandy, the Assistant Director in Charge of the FBI’s Los Angeles Field Office, said that Satinderjit Singh is a dangerous individual. He said that Singh was placed on the Ten Most Wanted list to help capture him and that a substantial reward had been announced.

The agency has warned that he should be considered armed, dangerous, and a flight risk. Anyone with information is urged to contact the FBI at 1-800-CALL-FBI or submit information at tips.fbi.gov.

Indian media have also widely reported the development. Goldy Brar has long been on the wanted lists of the Punjab Police and the National Investigation Agency (NIA). His name has surfaced in several cases, including the murder of Punjabi singer Sidhu Moosewala. His addition to the United States’ highest-profile fugitive list has now drawn international attention to the case.

এফবিআই-এর টপ টেন ওয়ান্টেডে ভারতীয় গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার, গ্রেপ্তারে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার


এফবিআই-এর টপ টেন ওয়ান্টেডে ভারতীয় গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার, গ্রেপ্তারে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পাঞ্জাবের সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে তাদের কুখ্যাত টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস তালিকায় যুক্ত করেছে। গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিআই লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিস এই ঘোষণা দেয়। তিনি তালিকার ৫৪৩তম সদস্য।

এফবিআই-এর অফিসিয়াল পোস্টারে জন্মস্থান লেখা আছে পাঞ্জাব, ইন্ডিয়া। জন্মসাল ১৯৯৪। উপনাম গোল্ডি ব্রার, সতিন্দরজিৎ সিং ব্রার। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, ওজন ২২০ পাউন্ড। পাঞ্জাবি ও ইংরেজি বলেন। ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডা, ভারত ও মেক্সিকোর সঙ্গে তার যোগসূত্র আছে বলে সংস্থা জানিয়েছে।

এফবিআই বলছে, তিনি লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের উত্তর আমেরিকা শাখার অভিযুক্ত নেতা। এই গ্রুপ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ। এর মধ্যে আছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হত্যা, গুলি, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হামলা এবং মাদক ও অস্ত্র পাচার।

জুলাই ২০২৬-এ লস অ্যাঞ্জেলেসের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। অভিযোগ তিনটি:

- র‍্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশনস (রিকো) ষড়যন্ত্র

- চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র

- নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ ও দখলের ষড়যন্ত্র

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে গুরু নানক শিখ গুরুদ্বারার বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিজ্জার গাড়ি পার্কিং লট থেকে বের হওয়ার সময় দুই বন্দুকধারী তাকে গুলি করে হত্যা করেন।

লরেন্স বিষ্ণোই নিজেও পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার। তিনি ভারতে জেলে আছেন। এফবিআই বলছে, জেল থেকেই তিনি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন এবং গোল্ডি ব্রার তার উত্তর আমেরিকার প্রধান লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন।

এই তদন্তের নাম অপারেশন হার্ডবল। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ৩৭ জনকে অভিযুক্ত করে। তার মধ্যে পাঁচজন এখনও পলাতক। গোল্ডি ব্রার তাদের একজন।

এফবিআই লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইন চার্জ প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেছেন, সতিন্দরজিৎ সিং বিপজ্জনক ব্যক্তি। তাকে ধরতেই তাকে টপ টেন তালিকায় রাখা হয়েছে এবং বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

সংস্থা সতর্ক করেছে, তাকে সশস্ত্র, বিপজ্জনক এবং পালানোর ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করতে হবে। কোনো তথ্য থাকলে ১-৮০০-কall-এফবিআই নম্বরে বা tips.fbi.gov-এ জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমও বিষয়টি প্রচার করেছে। গোল্ডি ব্রার দীর্ঘদিন ধরে পাঞ্জাব পুলিশ ও এনআইএ-র তালিকায় ছিলেন। সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলায় তার নাম আসে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ফেরারি তালিকায় যাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে।

গুইমারা: একটি ধর্ষনের মিথ্যা অভিযোগ থেকে যে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল

গুইমারা: একটি ধর্ষনের মিথ্যা অভিযোগ থেকে যে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় যা ঘটেছিল, তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়ে না। একটি মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুত জাতিগত উত্তেজনা, সড়ক অবরোধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং শেষ পর্যন্ত গুইমারার রামসু বাজারে প্রাণহানিতে গড়ায়। ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে তিন পাহাড়ি তরুণ নিহত হন এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশ হত্যা ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা করে।  

কিন্তু কয়েক দিন পর ঘটনাটির সবচেয়ে আলোচিত দাবিটির ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। সরকারি মেডিকেল বোর্ড কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত খুঁজে পায়নি। এই ফলাফল অভিযোগটি যে ঘটেনি—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ করে না; কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করে যে ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষায় প্রত্যাশিত শারীরিক আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠার আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা উচিত ছিল। 

এর পরের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ: এই আবেগকে কে কীভাবে ব্যবহার করেছিল? সেনাবাহিনী ও জেএসএস—দুই পক্ষই ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, ইউপিডিএফ সংগঠিতভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে; জেএসএসও বলেছে, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে ইউপিডিএফের লোকজন উসকানি দিয়েছিল। পরে প্রমাণিত হয় যে  “ইউপিডিএফই পুরো ঘটনা পরিকল্পনা করেছে”। 

গুইমারার ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো দীর্ঘদিনের জাতিগত ও রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় যেকোনো যৌন সহিংসতার অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল সামাজিক ট্রিগার হয়ে উঠতে পারে তার জ্বলন্ত প্রমাণ।  কারণ তদন্তের আগে অভিযোগকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ—গুইমারায় তিন তরুণের মৃত্যু, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক সংঘর্ষ তারই ভয়াবহ উদাহরণ। এখনও সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ছড়িয়ে যাচ্ছে সুহাস চাকমা। 

Celebrating Sheikh Hasina’s Birthday in India: A New Example of a Violation of Diplomatic Etiquette

 


Celebrating Sheikh Hasina’s Birthday in India: A New Example of a Violation of Diplomatic Etiquette

September 2026. A birthday event is being held in a city in India. The person in whose name the event is being organized is Bangladesh’s former Prime Minister Sheikh Hasina.

The event itself may seem small. But its significance is much greater.

Because this event is being organized at a time when Bangladesh-India relations are going through a delicate process of reconstruction. And at precisely such a time, this gathering raises a fundamental question about diplomatic etiquette.

In August 2024, Sheikh Hasina was removed from power and fled to India. Following that, a new political reality emerged in Bangladesh.

In February 2026, a new government was formed under the leadership of Tarique Rahman. Since then, a process of restoring relations between Dhaka and New Delhi has begun.

India’s Foreign Minister visited Dhaka. The Speaker of the Indian Parliament and the Foreign Secretary attended the swearing-in ceremony. Discussions began between the two countries on trade, connectivity, and manpower.

At this delicate moment, celebrating Sheikh Hasina’s birthday in India—particularly if it is done with the cooperation of state or government institutions—raises the first question mark over the sincerity of this process of restoration.

But the birthday event was not the only issue. Another matter was connected to the gathering—the screening of a documentary made about Sheikh Hasina.

The documentary claims to portray Sheikh Hasina’s political life, her period in power, and her exile following the July uprising of 2024. The screening was organized as part of the same event.

This is much more than a simple birthday celebration. It is an attempt to construct a narrative framework in which Sheikh Hasina is portrayed as a “persecuted leader” who was “unjustly” removed from power.

But the gap between this narrative and reality is that Bangladesh’s International Crimes Tribunal sentenced her to death in absentia in November 2025. According to United Nations information, approximately 1,400 people were killed during the repression carried out by her government during the July uprising of 2024.

In such a context, an attempt to portray Sheikh Hasina through a documentary as an “exiled” leader is not merely a violation of diplomatic etiquette; it is a direct challenge to Bangladesh’s judicial process.

There is an unwritten rule of diplomacy—the host country should never interfere in the internal politics of the visiting country.

Sheikh Hasina is currently a highly controversial figure in Bangladeshi politics. Judicial proceedings against her over allegations of crimes against humanity have been completed. In such a situation, celebrating her birthday in India and screening a documentary about her—regardless of whether it is presented as a “cultural” or “private” event—amounts to a form of disregard for Bangladesh’s judicial process and political stability.

The fundamental basis of international relations is mutual respect and sensitivity. If India genuinely wants healthy relations with Bangladesh, it should have refrained from organizing events that hurt the sentiments of a large section of the Bangladeshi people.

India presents itself as the “big brother” of South Asia. But this incident shows that India’s diplomacy is often driven by its own political interests.

Some Indian political parties and media outlets use Bangladesh’s political debates for their own interests. The celebration of Sheikh Hasina’s birthday and the screening of her documentary are part of that same trend.

This is a clear example of double standards. On the one hand, India speaks of cordial relations with Bangladesh’s new government. On the other hand, it openly extends support to the political opponent of that government.

Bangladesh should respond to this incident clearly and firmly.

Silence means silent approval of such behavior. India needs to be made to understand through diplomatic channels that Sheikh Hasina is an internal matter of Bangladesh. Celebrating her birthday officially in India and screening a documentary about her is disrespectful to Bangladesh’s sovereignty.

It is time for the Ministry of Foreign Affairs to take a clear position on this matter. If India is genuinely interested in improving relations, it should refrain from such diplomatic indiscretions in the future.

Diplomacy is not merely a game of formalities. It is about mutual respect and sensitivity.

Celebrating Sheikh Hasina’s birthday in India and screening her documentary—especially in the current context—is an unnecessary and harmful step.

If India wants to maintain its image as a trusted partner in South Asia, it should avoid unnecessary interference in the internal politics of its neighbors.

Otherwise, incidents of this kind will damage the future process of restoring India-Bangladesh relations.

পাহাড়ে আইন প্রয়োগ করতেও কি নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে?

 পাহাড়ে আইন প্রয়োগ করতেও কি নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে?

পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালন নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে কোনো অভিযানে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে অনেক সময় ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট আড়ালে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর দমদমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের চেকপোস্টে ভারতীয় দুই নাগরিককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় কসমেটিকস, আধার কার্ড ও কাপড়চোপড় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে বিজিবি টহলদল রওনা হলে দমদমিয়া এলাকায় স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের পথরোধ করে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন হলো—ঘটনা যাই হোক না কেন, বিজিবির হাতে আটক কোনো ভারতীয় নাগরিককে ছিনিয়ে নেওয়ার বা নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার এখতিয়ার কি স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রয়েছে? কোনো ব্যক্তিকে আটক করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত থেকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে না।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজিবির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় সৃষ্ট উত্তেজনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিজিবি কর্তৃক স্থানীয় নিরপরাধ জনগণকে আটক, জোরপূর্বক গ্রেপ্তার কিংবা নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো অভিযোগও প্রচার করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা থাকলে অবশ্যই তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন; একইভাবে যাচাই ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবেও উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

একটি সীমান্তসংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে এবং আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করবে—এটাই স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অংশ। সেই দায়িত্ব পালনের সময় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলে তা স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি কার্যক্রম যেমন জবাবদিহির আওতায় থাকা প্রয়োজন, তেমনি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালনের অধিকার ও কর্তৃত্বকেও সম্মান করা প্রয়োজন। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাই প্রয়োজন গুজব বা একপাক্ষিক প্রচারণা নয়; বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, প্রমাণ এবং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা।

আইন প্রয়োগের ঘটনা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘ভিলেন’ বানানোর চেষ্টা কেন?

 আইন প্রয়োগের ঘটনা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘ভিলেন’ বানানোর চেষ্টা কেন?

পাহাড়ে কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটাকে ঘিরে একটা নির্দিষ্ট ‘গেম’ যেন বারবার সামনে আসছে! গত ২৭ সেপ্টেম্বর দমদমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের চেকপোস্টে ভারতীয় দুই নাগরিককে আটক করে তাদের রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের পথে স্থানীয় কিছু লোকজন বিজিবির টহলদলের পথরোধ করে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কিন্তু এরপর মূল ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকেই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ঘটনা ঘটল একভাবে, কিন্তু প্রচারে দেখানো হচ্ছে আরেকভাবে—এটা কি নিছক ভুল বোঝাবুঝি, নাকি ঘটনাকে পুঁজি করে পরিস্থিতি অশান্ত করার একটা পরিকল্পিত প্রবণতা?

নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ভুল হলে অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরির হাতিয়ার বানানো হলে পাহাড়ে অবিশ্বাসই বাড়বে। শান্তি চাইলে গুজব বা একপাক্ষিক প্রচারণা নয়, পুরো ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট সামনে আসা দরকার।

সরকারকে দোষারোপের সংস্কৃতি: রাজনৈতিক বয়ান, আবেগের রাজনীতি নাকি ন্যারেটিভ কৌশল?

 সরকারকে দোষারোপের সংস্কৃতি: রাজনৈতিক বয়ান, আবেগের রাজনীতি নাকি ন্যারেটিভ কৌশল?  

ঘটনা ঘটলেই সরকারকে দোষারোপ করার যে সহজ অভ্যাস গড়ে উঠেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা সেই প্রবণতার একটি তাজা উদাহরণ। রাতে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে, একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এসব অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু ঘটনার পরপরই লাইভে এসে পুরো রাষ্ট্র ও একটি রাজনৈতিক দলকে চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়া এবং তাকেই মূল বয়ান বানিয়ে তোলা ন্যায়বিচার নয়, আবেগের রাজনীতি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সালমান মুক্তাদিরকে ভিকটিম বলেই স্বীকার করেছেন। ক্ষতি দেখা গেছে, প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তিনি একইসঙ্গে বলেছেন, সালমান নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা চায়নি। চাইলে তিনি দিতেনও। তারপরও বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে। এটা নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়, রাজনৈতিক স্লোগান। যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি চিহ্নিত নয়, সেখানে একটি দলকে সমূলে দায়ী করা তদন্তকে সাহায্য করে না, বরং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অন্য ছবি দেখায়। ইসিবি চত্বরের মানিকদী নামাপাড়ায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ এবং অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দখল-বেদখলের বিরোধ চলছিল। রাতে দখল নিতে যাওয়া একটি দল স্থাপনা ভাঙচুর করে। সালমানের স্টুডিও সেই স্থাপনার ভিতরে ছিল। অর্থাৎ স্টুডিও মূল টার্গেট নাও হতে পারে। এটা চাঁদাবাজির নাটক নয়, পুরনো জমি বিরোধের রাতের অভিযান—যা বাংলাদেশে নতুন নয়। পুরনো সরকারের আমলেও এমন ঘটনা ঘটেছে। পার্থক্য এই যে, এখন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে, আটক করেছে, মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের তালিকাও নীরবতা ভাঙে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ কয়েকজন আটক। তাদের মধ্যে সাবেক যুবলীগ নেতাও রয়েছেন, যাঁর নাম মিরপুরের পুরনো সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে ডিবি দাবি করেছে। অর্থাৎ যে বয়ান বলছে ‘ক্ষমতাসীন দলের লোক হামলা করেছে’, সেই বয়ানের সঙ্গে মাঠের তথ্য মিলছে না। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রকে দোষী সাব্যস্ত করা মানে প্রমাণের আগে রায় দেওয়া।

সরকারের কাজ দুটো। এক, ভুক্তভোগীর ক্ষতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুই, অপরাধীকে পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা। সেই কাজ শুরু হয়েছে। নাগরিকের কাজ হলো ঘটনাকে ঘটনা হিসেবে দেখা—জমি বিরোধ, স্থানীয় প্রভাব, অস্ত্রধারী দল—এগুলোকে স্বীকার করা। প্রতিটি সহিংসতাকে সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চক্রান্ত বানিয়ে ফেললে আসল অপরাধী রক্ষা পায়, তদন্ত দুর্বল হয়, আর জনগণ শুধু ক্ষোভের নাটক দেখে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হলে দোষারোপের এই স্বয়ংক্রিয় বোতাম বন্ধ করতে হবে। নইলে প্রতিটি রাতের হামলাই রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হবে, ন্যায়বিচার নয়।

প্রথম আলোর চাটুকারিতা বা মোসাহেবি যেভাবে চলত হাসিনার জন্মদিনে!

 প্রথম আলোর চাটুকারিতা বা মোসাহেবি যেভাবে চলত হাসিনার জন্মদিনে!

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউয়ের জোর ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউয়ের জোর ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ইইউভুক্ত সাত দেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তারও প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। অভিবাসন প্রসঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়। সাক্ষাতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। রাষ্ট্রদূতরা রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভারতে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন: কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার লঙ্ঘনের এক নতুন দৃষ্টান্ত


ভারতে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন: কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার লঙ্ঘনের এক নতুন দৃষ্টান্ত

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ভারতের একটি শহরে আয়োজিত হয় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান। যার নামে সেই অনুষ্ঠান— তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমন একজন পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশে দণ্ডিত একজনকে নিয়ে আয়োজিত জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘটনাটি নিজে হয়তো ছোট। কিন্তু এর তাৎপর্য অনেক বড়।

কারণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক সূক্ষ্ম পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর সেই সময়েই এই আয়োজন কূটনৈতিক শিষ্ঠাচারের একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দেয়।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পালিয়ে যান ভারতে। এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসে এক নতুন বাস্তবতা।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করেন। ভারতীয় সংসদ স্পিকার ও পররাষ্ট্র সচিব শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জনশক্তি বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এই সূক্ষ্ম মুহূর্তে ভারতে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন—বিশেষত যদি তা রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় হয়—সেই পুনরুদ্ধারের সদিচ্ছার ওপর প্রথম প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি একা ছিল না। সেই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল আরেকটি বিষয়—শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারির প্রদর্শনী।

এই ডকুমেন্টারিটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, তার শাসনামল এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তার নির্বাসনের গল্প তুলে ধরার দাবি করে। প্রদর্শনীটি আয়োজিত হয় একই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে।

এটি কেবল একটি জন্মদিনের আয়োজন থেকে অনেক বড় কিছু। এটি একটি বর্ণনামূলক কাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টা—যেখানে শেখ হাসিনাকে একজন "নিপীড়িত নেত্রী" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যিনি "অন্যায়ভাবে" ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন।

কিন্তু এই বর্ণনার সঙ্গে বাস্তবতার যে ফারাক, তা হলো—বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার সরকারের দমন-পীড়নে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে একটি ডকুমেন্টারির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে "নির্বাসিত" হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা—তা কেবল কূটনৈতিক শিষ্ঠাচারের লঙ্ঘন নয়, এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

কূটনীতির একটি অলিখিত নিয়ম আছে—অতিথি দেশ কখনো আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না।

শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে তার জন্মদিন উদযাপন এবং তার ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন—তা যতই "সাংস্কৃতিক" বা "ব্যক্তিগত" আয়োজন হিসেবে উপস্থাপিত হোক—বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি এক ধরনের অবমূল্যায়ন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতা। ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক চায়, তাহলে তার উচিত ছিল এমন আয়োজন থেকে বিরত থাকা, যা বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশের অনুভূতিতে আঘাত করে।

ভারত নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার "বড় ভাই" হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু এই ঘটনা দেখায়—ভারতের কূটনীতি প্রায়শই নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।

ভারতের কিছু রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন এবং তার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন সেই প্রবণতারই অংশ।

এটি দ্বৈত মানদণ্ডের স্পষ্ট উদাহরণ। একদিকে ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলে। অন্যদিকে সেই সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রচ্ছন্নভাবে প্রশ্রয় দেয়।

বাংলাদেশের উচিত এই ঘটনার প্রতি স্পষ্ট ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানানো।

নীরবতা মানে এই ধরনের আচরণের নীরব অনুমোদন। কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতকে বোঝানো দরকার—শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার জন্মদিন ভারতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা এবং তার ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি। ভারত যদি সত্যিই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হয়, তাহলে তার উচিত ভবিষ্যতে এই ধরনের কূটনৈতিক অসতর্কতা থেকে বিরত থাকা।

কূটনীতি কেবল আনুষ্ঠানিকতার খেলা নয়। এটি পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতার বিষয়।

ভারতে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন এবং তার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন—বিশেষত বর্তমান প্রেক্ষাপটে—একটি অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদক্ষেপ।

ভারত যদি দক্ষিণ এশিয়ায় তার বিশ্বস্ত অংশীদার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চায়, তাহলে তার উচিত প্রতিবেশীদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অকারণ হস্তক্ষেপ পরিহার করা।

অন্যথায়, এই ধরনের ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

যুদ্ধ নয়, মানবতাই হোক পথের দিশা — জাতিসংঘে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

যুদ্ধ নয়, মানবতাই হোক পথের দিশা — জাতিসংঘে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ২৫ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণের শুরুতেই তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরেন একটি প্রশ্ন— যুদ্ধ, সংঘাত আর অস্ত্রের রণন যখন বিশ্বকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তখন মানবতার পথে হাঁটা ছাড়া বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ভাষণে তুলে ধরেন তিনটি স্তম্ভ, যা তার সরকারের আগামী দিনের পথচলার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।

প্রথমত, শান্তি ও কূটনীতি। কোনো দেশের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন— স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আসবে না, আর বিশ্বের শান্তিও নিরাপদ থাকবে না। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারও তিনি তুলে ধরেন ।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দীর্ঘ সময়ের ক্ষয়ক্ষতির পর বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য তার সরকার গ্রহণ করেছে ‘থ্রি-আর’ কৌশল— রিকভারি, রেস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘সম্ভাবনার এক বিশাল দিগন্তে’ দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা, ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, তিস্তা মাস্টার প্লান ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প— এসবই এই পুনর্গঠনের অংশ ।

তৃতীয়ত, জনগণের ক্ষমতায়ন। নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, পরিবার কার্ড নারীর নামে ইস্যু করা হচ্ছে। নারীদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ‘আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন কালকের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়’— এই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকারের দাবি জানান ।

ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রোহিঙ্গা সংকট। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন— ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। তিনি সতর্ক করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়, তবে বড় মানবিক সংকট তৈরি হবে। মিয়ানমারকেই এই সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, যদিও কার্বন নির্গমনে ভклад минимален। তিনি জলবায়ু ন্যায্যতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান এবং কপ-৩১ সম্মেলনে বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত তিন শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায়— ধনী দেশগুলোর কাছে সাহায্যের হাত পাততে তিনি রাজি নন ।

ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গড়তে চায় একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক সমাজ— যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে পারবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, এবং প্রতিটি শিশু নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাবে ।

দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভাষণে তারেক রহমান কেবল বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেননি— বরং জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

জাতিসংঘ মঞ্চে তারেক রহমান: শান্তি, পুনর্গঠন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশের নতুন ভাষ্য

জাতিসংঘ মঞ্চে তারেক রহমান: শান্তি, পুনর্গঠন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশের নতুন ভাষ্য

২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার রূপরেখা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তিনি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেন। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের রূপরেখা পেশ করেন।

বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান। 

চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যুক্ত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্লেনকোভিচ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী চার্নভিরাকুল। এছাড়া মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, কুয়েতের যুবরাজ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার এবং শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

সফরকালে বাংলাদেশ বিমান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ভাষণ দিলেন। এর আগে ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পাঁচবার বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন।

সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।

দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে নতুন উচ্চতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো।

পাহাড়ে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?

পাহাড়ে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু পাহাড়ি-বাঙালি অবিশ্বাস নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও সংঘাত। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি পাহাড়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুলেছিল। কিন্তু চুক্তির পরও একাধিক সশস্ত্র সংগঠনের উত্থান এবং পারস্পরিক সংঘাত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ৩৪ জন নিহত ও ৪৯ জন অপহৃত হওয়ার তথ্য পুলিশের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।

সশস্ত্র রাজনীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি এখানেই। যে রাজনীতি জনগণের অধিকার রক্ষার কথা বলে, সেই রাজনীতি যখন অস্ত্র, চাঁদা ও দখলদারির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ পাহাড়ি মানুষই তার প্রথম শিকার হয়। ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও পাহাড়ের সহিংসতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। ২০২৬ সালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর।

সরকারের অবস্থান হলো—অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হবে আইনের ব্যবস্থার ভিত্তি। একই সঙ্গে সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির বৈঠকে পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ একদিকে যেমন চুক্তির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তেমনি অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্যের অবসানের সঙ্গেও যুক্ত।

পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কোনো সম্প্রদায়কে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি, উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। কারণ অস্ত্র কখনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান দিতে পারে না। পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত আলোচনা, আইন, উন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমে—চাঁদা, অপহরণ কিংবা বন্দুকের নলের মাধ্যমে নয়।

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team